‘জিরো ফিগার’ তাঁর কখনই ছিল না, তবে বরাবরই তিনি ফিট। নব্বইয়ের দশকে বলিউডে ঝড় তোলা নায়িকা রবীনা টন্ডন ৫৩-তেও সুন্দরী। তাঁকে দেখলে যে কেউ বলবেন, বয়স যেন থমকে গিয়েছে।
এক সময়ের দাপুটে নায়িকা, তাঁদের জীবনযাপন কি আর পাঁচ জনের সঙ্গে মেলে? তাঁদের ওঠা-বসার মতোই খানাপিনাও রাজকীয় এমনটাই ভাবতে পারেন অনুরাগীরা। তবে ফিটনেস নিয়ে হইচই করা তরুণ প্রজন্মকে দশ গোল দিয়ে তিনি দেখিয়ে দিলেন ঘরের ডাল, সব্জি, রুটি যা দীর্ঘ দিন খাওয়ার চল, তা খেয়েই সুস্থ থাকা যায়। থাকা যায় ফিটও।
অতীতে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন তাঁর খাওয়া-দাওয়ার দিনলিপি। আর তাতেই স্পষ্ট রবীনা ঘরোয়া খাবার পছন্দ করেন। তবে জীবন থেকে বাদ যায়নি রুটি-তরকারি।
রবীনার দিন শুরু হয় ঈষদুষ্ণ জল খেয়ে। সেই জলে মিশিয়ে নেন এক চিমটে হলুদ। মশলা হিসাবে ব্যবহৃত হলুদ যে মহৌষধ তা মানেন অনেকে। এতে রয়েছে কারকিউমিন যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। হলুদ জল হজমক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর।এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট।
আরও পড়ুন:
কিছুক্ষণ পরে আদা দিয়ে চা খান তিনি। সঙ্গে টোস্ট। সঙ্গে কোনও ফল, কখনও আবার ডিম।
প্রাতরাশ সারার ঘণ্টা দুই পরে আবার একটু খিদে পেলে যে কোনও রকম ফল খান তিনি। সেই তালিকায় আঙুর বা রসালো ফল থাকে। যাঁরা স্বাস্থ্য সচেতন বা যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁরা অনেকেই ফলের ক্যালোরি বুঝে তবে খান। যে ফলে বেশি শর্করা সেটি বাদ দেন।তবে অভিনেত্রী মনে করেন, কলা হোক বা আঙুর, ফলের অনেক গুণ। তাই যে কোনও ফল ক্যালোরির হিসাব না করে পরিমিত খাওয়াই যায়।
স্বাস্থ্য নিয়ে ইদানীং অনেকেই সচেতন। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মেদ ঝরাতে ভাত-রুটি ছেড়েছেন। তালিকায় ওট্স, ডালিয়া, রাগিও থাকছে। অভিনেত্রীর যুক্তি, যে খাবার খেতে ভাল লাগে সেটি খাওয়া যায়, তবে পরিমিতি বোধ জরুরি।
মধ্যাহ্নভোজে রুটি, ডাল, তরকারি তাঁর খাবার।সন্ধ্যায় আবার খিদে পেলে কোনও দিন ছানা, কখনও মুড়ি আবার ইচ্ছা হলে মাখানাও বেছে নেন তিনি। আর সাতটা বাজলেই সারেন নৈশ আহার। স্যুপ দিয়ে। মাশরুম, টম্যাটো, ইচ্ছামতো এক একদিন এক একরকম স্যুপ খান তিনি।
অতীতে এক সাক্ষাৎকারে কলকাতার পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলছিলেন, যিনি ওজন কমাতে চাইছেন, তিনি কতটা ওজন কমাবেন, তাঁর কোনও অসুখ আছে কি না, তিনি কী খেতে পছন্দ করেন বা না করেন তার উপর ডায়েটের বিষয়টি নির্ভর করে। তিনি বলেছিলেন ভাত খেয়েও ওজন বশে রাখা যায়।
তাই রবীনাকে দেখেও নিজের ভাল লাগা অনুযায়ী সাজাতে পারেন ডায়েট। তবে খাবারে থাকতে হবে প্রোটিন, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন এবং খনিজের ভারসাম্য। খেতে হবে শরীর বুঝে।