Advertisement
E-Paper

জিনের নাড়ি-নক্ষত্র পড়ে দুরারোগ্য রোগের হদিস দেবে এআই! নতুন প্রযুক্তি তৈরির পথে গুগ্‌ল

জিনের ঠিকুজি-কোষ্ঠী বিচার করে রোগের ইতিহাস গড় গড় করে বলে দেবে নতুন এআই টুল ‘আলফাজিনোম’। ক্যানসার থেকে জটিল জিনগত রোগ— আগে থেকেই ধরে ফেলতে নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের দাবি গুগ্‌লের।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৪৬
Google DeepMind has introduced new AI tool that can read DNA to spot diseases

জিনের তথ্য পড়ে আগে থেকেই রোগ বলে দেবে নতুন এআই টুল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

জিনের ঠিকুজি-কোষ্ঠী বিচার করতে পারলেই রোগের ভবিষ্যৎ করায়ত্ত হবে। ক্যানসার থেকে যে কোনও দুরারোগ্য ব্যধি, নখদর্পণে চলে আসবে বিজ্ঞানীদের। কিন্তু জিনের কোষ্ঠী বিচার করা সহজ কাজ নয়। লক্ষ লক্ষ জিনের মধ্যে থেকে তা খুঁজে বার করা সত্যিই দুঃসাধ্য। সেই কাজটি এ বার করবে ‘আলফাজিনোম’। গুগ্‌লের ডিপমাইন্ড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে এমন প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যা লক্ষ লক্ষ জিনের বিন্যাস বিশ্লেষণ করে তার নাড়ি-নক্ষত্রের হদিস দেবে। কোন জিনে বদল হচ্ছে, কোনটিতে লেখা আছে বিরল জিনগত রোগের ইতিহাস— তা জানিয়ে দেবে দ্রুত। ফলে রোগ নির্ণয় যেমন সহজ হবে, তেমনই তার চিকিৎসা পদ্ধতিও খুঁজে বার করতে পারবেন গবেষকেরা।

গুগ্‌লের এআই রিসার্চ অর্গানাইনেজশন ডিপমাইন্ডের তৈরি করা প্রথম এআই টুল ছিল ‘আলফামিসেন্স’। এটিরও কাজ ছিল জিনের ‘ডি-কোডিং করা।’ অর্থাৎ,জিনের দুরূহ তথ্য সহজ ভাষায় লিখে দেওয়া। এরই আরও উন্নত সংস্করণ হল ‘আলফাজিনোম’। জিনগত নানা রোগের নিখুঁত শনাক্তকরণের জন্যই এই প্রযুক্তিটি তৈরি হয়েছে। গুগ্‌ল জানিয়েছে, একসঙ্গে ১০ লক্ষের বেশি জেনেটিক কোড পড়ে ফেলতে পারবে আলফাজিনোম। দেখাবে, মানব শরীরের কোন কোন জিন খুব দ্রুত তার সাজসজ্জা বদলে ফেলতে পারে। কোন জিনের রাসায়নিক বদল (মিউটেশন) ঘটে ক্যানসার বা জটিল ব্যাধি হয়। শুধু তা-ই নয়, এ-ও বলে দিতে পারবে যে, শরীরে এমন কোনও জিন আছে কি না, যার থেকে দুরারোগ্য জিনগত ব্যধি হওয়ার ঝুঁকি আছে বা পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও সেই ব্যধির সঞ্চার হতে পারে।

ডিএনএ বা জিনের কতটুকুই বা জানা! মানুষের শরীরে যত সংখ্যক জিন রয়েছে তার মাত্র ২ শতাংশ প্রোটিন তৈরির নির্দেশ দেয়। বাকি ৯৮ শতাংশকে বলা হয় ‘ডার্ক ম্যাটার’ বা ‘জাঙ্ক ডিএনএ’ যেগুলির কাজকর্মের পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা খুবই কম। বলতে গেলে, তাদের বেশির ভাগই গবেষকদের জানাশোনার বাইরে। সেই জিনগুলি কী ভাবেই বা কাজ করে, কী কী গোপন তথ্য বহন করে, তা জানতে পারলেই বোঝা যাবে কেন এত জটিল অসুখবিসুখ হয় মানুষের। গবেষকেরা দাবি করছেন, যে কোনও দুরারোগ্য রোগ বা জিনগত রোগে কোষের ডিএনএ-তে বিপুল বদল আসে। এই বদলটাই চিনতে পারবে ‘আলফাজিনোম’। আরও কিছু সুবিধা হবে। যেমন, মানবশরীরে জিনের গঠন দেখে কোন শরীরে কেমন ওষুধ সবচেয়ে কার্যকর হবে বা সে ক্ষেত্রে কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে, তা জানা যাবে। ক্যানসারের কোষের জেনেটিক পরিবর্তনকে বিশ্লেষণ করে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি খুঁজে বার করা যাবে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই পদ্ধতি যদি সফল হয়, তা হলে বেশ কিছু বিরল ও মারণ রোগ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব হবে। আরও উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হবে।

Genetic Disease Rare Diseases Artificial Intelligence DNA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy