চিনিই সবচেয়ে বড় শত্রু, এমনই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। স্থূলত্ব থেকে ডায়াবিটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল থেকে হাইপারটেনশন— সবের জন্যই চিনিকে দোষী করা হয়েছে। তাই বিশ্ব জুড়ে এখন ‘নো সুগার ক্যাম্পেন’ চলছে। খাওয়াদাওয়া থেকে চিনি বা মিষ্টি জাতীয় যে কোনও কিছু ছেঁটে ফেলা হচ্ছে। মিষ্টির বিকল্পও খুঁজে বার করা হচ্ছে। চিনি ছাড়া মিষ্টি, চিনি ছাড়া কেক অথবা রান্নায় চিনির বিকল্প হিসেবে কী কী ব্যবহার করা যেতে পারে, তা নিয়েও ইন্টারনেটে বিস্তর খোঁজাখুঁজি চলছে। তবে দেশের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ এবং হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জানিয়েছেন, চিনি কিন্তু ততটা খারাপ নয়। কী পরিমাণে খাচ্ছেন তা গুরুত্বপূর্ণ। ১৪ দিনের জন্য যদি চিনি একেবারে বাদ দেন, তা হলে শুরুতে কিছু সমস্যাও হতে পারে। তবে লাভ অনেকটাই হবে।
চিনি খাওয়া ছাড়লে প্রথম ৪-৫ দিন কী কী হবে?
চিনি যাঁরা অতিরিক্ত খান বা খুব বেশি মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস আছে, তাঁরা হঠাৎ করে চিনি খাওয়া ছাড়লে শরীর মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নেবে। প্রথম চার থেকে পাঁচ দিন, মাথাযন্ত্রণা, মাথাঘোরার সমস্যা হতে পারে।
ক্লান্তি বেড়ে যাবে। অল্পেই ঝিমুনি আসবে।
আরও পড়ুন:
সারা ক্ষণ মিষ্টি জাতীয় খাবার বা কার্বোহাইড্রেট বেশি খেতে ইচ্ছে হবে।
চিনির সঙ্গে মস্তিষ্কের ডোপামিন হরমোনের সংযোগ রয়েছে। তাই চিনি খাওয়া ছাড়লে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যেতে পারে, মুড সুইং-এর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
‘ব্রেন ফগ’-এর সমস্যা হতে পারে। মনঃসংযোগের অভাব হবে, কাজে মন দিতে পারবেন না। চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যাবে।
লাভ কী হবে?
শুরুতে কিছুটা সমস্যা হলেও শরীর ধীরে ধীরে মানিয়ে নেবে। ১৪ দিন পর থেকে দেখবেন, ত্বকের উজ্জ্বলতা বেড়েছে। ক্লান্তি উধাও হয়েছে। শরীর অনেক চনমনে লাগছে।
পেটের মেদ কমতে শুরু করবে। ওজন কমতে থাকবে ধীরে ধীরে।
পেট ফাঁপা, গ্যাস-অম্বলের সমস্যা কমবে। অন্ত্রের ভাল ব্যাক্টেরিয়াগুলি সক্রিয় হবে। ফলে খাবার তাড়াতাড়ি হজম হবে।
রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক থাকায়, রাতে ঘুম ভাল হবে। অনিদ্রা বা কম ঘুমের সমস্যা থাকলে, তার সমাধান হবে দ্রুত।
বাতের ব্যথায় যাঁরা ভুগছেন, অথবা পেশির জোর কমেছে, তাঁরা চিনি খাওয়া বন্ধ করে দেখুন। সুফল পাবেন হাতেনাতে।
রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইড, কোলেস্টেরলে কমবে। রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
ফ্যাটি লিভারের সমস্যা থাকলে, তা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
চিনি ছাড়তে হলে প্রচুর পরিমাণে জল পান করতে হবে। রোজের খাবারে ফাইবার ও প্রোটিন বেশি রাখতে হবে, যেমন নানা ধরনের শাকসব্জি, ফল, মাছ-মাংস-ডিম বেশি করে খেতে হবে। তা হলে চিনি বা মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা কমবে।