রান্নাঘরের খুব পুরনো সঙ্গী লোহার কড়াই। বাজারে ননস্টিক, স্টিল ইত্যাদি নানা ধরনের পাত্র এলেও লোহার কড়াইয়ের জনপ্রিয়তা একেবারেই কমেনি। কারণ, এক দিকে যেমন লোহার কড়াইয়ে রান্না করা খাবারের স্বাদ ভাল হয়, তেমনই স্বাস্থ্যের জন্যও এই বাসন উপকারী। তবে লোহার বাসনে রান্না করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু সতর্কতাও জরুরি।
লোহার কড়াইয়ে রান্নার ৫ উপকরিতা
১) আয়রনের জোগান বৃদ্ধি: লোহার কড়াইয়ে রান্না হলে খাবারে সামান্য পরিমাণে আয়রন মিশে যেতে পারে। বিশেষ করে শাকসব্জি, ডাল, ঝোল জাতীয় রান্নায় এই সম্ভাবনা বেশি। যাঁদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে লোহার কড়াই খানিক উপকারী হতে পারে।
লোহার কড়াইয়ে রান্না করার জন্য কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি? ছবি: সংগৃহীত
২) খাবারের স্বাদ ভাল হয়: লোহার কড়াইয়ে বার বার রান্না করলে এর পৃষ্ঠে প্রাকৃতিক স্বাদ তৈরি হয়। তেল ও নুন শোষণ করে করে কড়াইয়ের মান বৃদ্ধি পায়। ফলে এতে রান্না করলে বাড়তি স্বাদ যোগ হয়। হালকা তেলে সব্জি ভাজার জন্য লোহার কড়াই পছন্দ করেন রন্ধনশিল্পীরা।
৩) তাপ সমান ভাবে ছড়ায়: লোহা এক বার গরম হলে তাপ ধরে রাখতে পারে দীর্ঘ ক্ষণ। ফলে কড়াইয়ের তাপ সমান ভাবে ছড়ায় চারদিকে। ফলে খাবারের এক দিক পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে না। কোনও অংশ কাঁচাও থাকে না। ভাজাভুজি বা মশলা কষানোর কাজে এটি বেশ সুবিধাজনক।
৪) টেকসই হয়: যথাযথ যত্ন করলে লোহার কড়াই বহু বছর ব্যবহার করা যায়। ননস্টিকের মতো এর কোটিং বা উপরের আস্তরণ উঠে যাওয়ার ভয় নেই। কড়াই শক্তপোক্ত হয়, সহজে বেঁকেও যায় না।
৫) রাসায়নিকের ঝুঁকি কম: অনেক সময়ে কোটিং বা বিশেষ আস্তরণ দেওয়া পাত্র বেশি তাপের সংস্পর্শে এলে তার কোটিং ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু লোহার কড়াইয়ে এমন কৃত্রিম আস্তরণ নেই। তাই খাবারে রাসায়নিক মেশার সুযোগ নেই। এটি তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ।
তবে মাথায় রাখতে হবে, লোহার কড়াই যত্ন করা খুব সহজ কাজ নয়। জল ও সাবানে ধোয়ার পর একদম শুকিয়ে নিতে হবে। নয়তো জং ধরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সামান্য তেল মাখিয়ে রেখে দেওয়া যায়। আর যত বেশি ব্যবহার হবে, ততই ভাল। তা ছাড়া দীর্ঘ ক্ষণ ধরে অম্লজাতীয় খাবার রান্না করা উচিত নয় লোহার কড়াইয়ে। নয়তো তাতে ধাতব স্বাদ যোগ হয়ে যেতে পারে।