দক্ষিণ ভারতের ইডলি-দোসার জনপ্রিয়তা দক্ষিণ ছাড়িয়ে পূর্ব-পশ্চিমেও এগিয়েছে। ভারতের বেশির ভাগ রাজ্যেই ‘স্ট্রিট ফুড’-এর তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণী খাবারটি। চাল, ডাল বেটে সেই মিশ্রণ মজিয়ে ভাপিয়ে তৈরি হয় ইডলি। দোসা অবশ্য ভেজেই হয়। কিন্তু তাতেও তেল থাকে নামমাত্র। তাই এমন খাবার ডায়েটের তালিকাতেও উঠে এসেছে। তবে যদি ওজন কমাতে দক্ষিণী খাবারই বেশি পছন্দ হয়, তা হলে শুধু দোসা বা ইডলি কেন, আরও কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরির প্রণালী রইল।
পেসারাত্তু
এটি অন্ধ্রপ্রদেশের জনপ্রিয় খাবার। মুগ ডাল দিয়ে তৈরি হয়, যাতে প্রচুর প্রোটিন থাকে। প্রোটিন ডায়েট করলে এই খাবারটি সকালের জলখাবারে রাখা যেতেই পারে। সারা রাত সবুজ মুগ ডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে। আদা, জিরে এবং কাঁচালঙ্কা দিয়ে ভেজানো ডাল বেটে নিন। সামান্য নুন দিয়ে এই ব্যাটারটি চাটু বা তাওয়ায় দোসার মতো ছড়িয়ে সামান্য তেল দিয়ে সেঁকে নিন। এটি নারকেলের চাটনির সঙ্গে গরম গরম খাওয়া হয়।
দোসার মতোই দেখতে পেসারাত্তু। ছবি: ফ্রিপিক।
রাগির আম্বলি
রাগির আটা দিয়ে তৈরি দক্ষিণ ভারতের খুবই পছন্দের একটি খাবার। ক্যালসিয়াম ও ফাইবারে ঠাসা খাবারটি খুব তাড়াতাড়ি ওজন ঝরাতে পারে। এটি বানাতে ১ কাপ জলে ২ চামচ রাগির আটা গুলে ফুটিয়ে নিন। ঘন হয়ে এলে ঠান্ডা করে তাতে টক দই, নুন এবং ভাজা জিরে গুঁড়ো মিশিয়ে দিন। স্বাদের জন্য সামন্য পেঁয়াজকুচি, কারিপাতা, ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে ঠান্ডা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।
ছবি: সংগৃহীত
কাডালা কারি
কেরলের ঐতিহ্যবাহী খাবার। কালো ছোলা ও নারকেল বাটা দিয়ে রাঁধা হয়। কালো ছোলা সেদ্ধ করে নিতে হবে। পেঁয়াজ, টম্যাটো, আদা-রসুন বাটা এবং দক্ষিণী মশলা (ধনে ও জিরে) দিয়ে কষিয়ে ছোলা রান্না করতে হবে। নামানোর আগে দিতে হবে নারকেল বাটা। এটি ভাত বা রুটির সঙ্গেও খাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
বিনস পোরিয়াল
তামিলনাড়ুতে খুব জনপ্রিয় এই খাবার। রাঁধাও সহজ। বিন ছোট ছোট টুকরো করে কেটে ভাপিয়ে নিন। কড়াইতে সামান্য তেলে সর্ষে, বিউলির ডাল এবং শুকনো লঙ্কা ফোড়ন দিন। এ বার বিন এবং কোরানো নারকেল দিয়ে মিনিট খানেক নেড়ে নামিয়ে নিন।
ইডিয়াপ্পাম
মূলত ভাপে তৈরি চালের নুড্লস। তেলের ব্যবহার প্রায় নেই বললেই চলে। চালের গুঁড়ো গরম জলে নুন দিয়ে মেখে একটি মণ্ড তৈরি করতে হবে। এ বার 'ইডিয়াপ্পাম মেকার' (বা ছাঁচ) দিয়ে পেঁচিয়ে ছোট ছোট গোলের মতো করে ইডলি মেকারে ৫-৭ মিনিট ভাপিয়ে নিতে হবে।