কেউ মনে করেন সলমন খানের মতো পেশিবহুল চেহারা বানাবেন। কারও আবার হৃতিক রোশনের মতো ‘সিক্স প্যাক’ পছন্দ। তারকাদের দেখাদেখি পেশিবহুল চেহারা বানাতে গিয়ে নানা রকম সাপ্লিমেন্টের প্রয়োগ করছেন অনেকে। আর তাতেই ঘনাচ্ছে বিপদ। কম পরিশ্রমে ও চটজলদি পেশি তৈরি করতে এখন অনেকেই পেপটাইড ইঞ্জেকশন নেন। তাতে কাজ হয় দ্রুত। কিন্তু মারাত্মক ক্ষতি হয় শরীরের। এই পেপটাইড ইঞ্জেকশন নিয়ে তাড়াতাড়ি পেশি বানিয়ে ফেলার যে ধারা শুরু হয়েছে তা কতটা ক্ষতিকর হতে পারে সেই নিয়ে সতর্ক করেছে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ)।
কী এই পেপটাইড?
পেপটাইড হল ছোট ছোট অ্যামাইনো অ্যাসিডের শৃঙ্খল যা শরীরে প্রোটিন তৈরি করে। এই পেপটাইড কিন্তু প্রাকৃতিকভাবেই শরীরে থাকে, যার কাজ অনেক। মূলত হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করা, ক্ষতিগ্রস্ত কোষের মেরামতির কাজ করা, ত্বকে কোলাজেন তৈরি করা থেকে শুরু করে আরও নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই পেপটাইড। কিন্তু যদি কম সময়ে পেশিবহুল চেহারা তৈরি করতে হয়, তা হলে বাইরে থেকে কৃত্রিম পেপটাইডের ইঞ্জেকশন নেওয়া হয়। এই কৃত্রিম পেপটাইডের কাজ হল শরীরকে আরও বেশি করে ‘গ্রোথ হরমোন’ তৈরিতে উদ্দীপিত করা, যাতে খুব দ্রুত পেশি তৈরি হতে পারে। আর এটি করতে গিয়েই নানা সমস্যার সূত্রপাত হয়।
পেশিবহুল চেহারা বানাতে গিয়ে এমন পেপটাইড ব্যবহার করা হয় যা পিটুইটারি গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে। ফলে হরমোনের ক্ষরণ অনেক বেড়ে যায়। ‘জিএইচআরপি-২’ বা ‘জিএইচআরপি-৬’ জাতীয় পেপটাইড পেশি বানানোর জন্যই নেওয়া হয়। এগুলি হরমোনের ক্ষরণ অস্বাভাবিক মাত্রায় বাড়িয়ে দিয়ে স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ফলে হরমোনের গোলমাল শুরু হয়। এমনও দেখা গিয়েছে, ধারাবাহিক ভাবে যাঁরা পেপটাইড ইঞ্জেকশন নিতে থাকেন তাঁদের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রজননেও সমস্যা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন:
কী কী ক্ষতি হয়?
১) পেপটাইড বা হরমোন ইঞ্জেকশন লাগাতার নিতে থাকলে শরীর নিজে থেকে হরমোন তৈরি করা কমিয়ে দেয় বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
২) অতিরিক্ত হরমোনের কারণে শুধু পেশি নয়, হৃৎপিণ্ড, লিভার এবং কিডনির কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে।
৩) এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, ফলে টাইপ-২ ডায়াবিটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
৪) হাত, পা বা চোয়ালের হাড় অস্বাভাবিক মোটা হয়ে যেতে পারে। হাড়ের গঠনে বিকৃতি আসতে পারে।
৫) পুরুষের টেস্টোস্টেরন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে শুক্রাণু উৎপাদন কমে যেতে পারে।
৬) উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
৭) অনেক সময়ে অত্যধিক হরমোনের ক্ষরণ কোষের বিভাজন বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে এর থেকে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।