Advertisement
E-Paper

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাচ্ছেন, তার পরেও ঘাটতি! খাওয়ার ৫ ভুলই কি নেপথ্য কারণ

অনেকেই আয়রনের ঘাটতি নিয়ে সচেতন। তাই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান নিয়মিত। কেউ আবার ওষুধও খান। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয় না। সে সব ক্ষেত্রে দায়ী হতে পারে খাবার খাওয়ার ভুল। কী কী সেগুলি?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৫
শরীরে আয়রনের ঘাটতির কারণ কী?

শরীরে আয়রনের ঘাটতির কারণ কী? ছবি: সংগৃহীত।

একটানা ক্লান্তি, মাথা ধরা, মাথা ঘোরানো, বুক ধড়ফড় করার সমস্যায় ভুগছেন। মুঠো মুঠো ওষুধ খাচ্ছেন, অথচ সারছে না। এগুলি কিন্তু অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতার লক্ষণ হতে পারে। আর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম হওয়া মানেই, আরও নানা সমস্যা দেখা দেওয়া। ভারতের অধিকাংশ মহিলাই রক্তাল্পতার সমস্যায় ভোগেন। ঋতুস্রাবের সময়ে এই প্রবণতা আরও বেড়ে যায়। তাই আয়রনের ঘাটতি মেটানো দরকার প্রথমেই।

অনেকেই আয়রনের ঘাটতি নিয়ে সচেতন। তাই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খান নিয়মিত। কেউ আবার ওষুধও খান। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয় না। সে সব ক্ষেত্রে খাওয়ার নিয়মে ভুল থেকে যায়। আপনার শরীর সেই আয়রন কতটা ও কেমন গ্রহণ বা শোষণ করতে পারছে, সেটি দেখা দরকার।

সম্প্রতি নিউ জার্সি নিবাসী পুষ্টিবিদ শিখা গুপ্ত কশ্যপ শরীরে আয়রন শোষণের বিষয়ে সতর্ক করার জন্য একটি ভিডিয়ো করেন সমাজমাধ্যমে। তাঁর মতে, একাধিক মহিলা মনে করেন, তাঁরা যথেষ্ট পরিমাণে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাচ্ছেন। কিন্তু আদৌ শোষণের কাজটিই ভাল করে হচ্ছে না। ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, চুল ঝরে পড়া, ইচ্ছাশক্তি কমে যাওয়া— এ সবই আয়রনের ঘাটতির পরিচিত লক্ষণ। কেবল ঘাটতি নয়, পুষ্টিবিদ বলছেন, আয়রন শোষিত না হওয়ারও লক্ষণ এগুলি। সে ক্ষেত্রে কী করণীয়?

পুষ্টিবিদের পরামর্শে আয়রনের শোষণ বাড়াতে পারেন ৫ কৌশলে—

১. চা এবং কফির সঙ্গে খাবার না খাওয়া: আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পাশাপাশি চা বা কফি খেলে পুষ্টিগুণ শোষণের ক্ষমতা কমে যায় শরীরের। এমনকি খাবারের ঘণ্টাখানেক আগে ও পরে চা বা কফি খেলেও একই রকম প্রভাব পড়ে। আয়রন শোষণ করার ক্ষমতা ৬০ শতাংশ কমে যায়। তাই খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে ও পরে চা-কফি পান করার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।

২. ভিটামিন সি-র সঙ্গে খাবার খাওয়া: পুষ্টিবিদ বলছেন, আয়রনে ভরপুর খাবারের সঙ্গে ভিটামিন সি মিশিয়ে খেলে শরীরে আয়রনের শোষণক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আয়রনের উদ্ভিজ্জ উৎসের সঙ্গে পাতিলেবু, আমলকি, কমলালেবু ইত্যাদি খাবার খাওয়া উচিত।

৩. ক্যালশিয়ামযুক্ত খাবার না খাওয়া: আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে ক্যালশিয়ামযুক্ত খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ। দুধ বা দুগ্ধজাত পণ্য ও আয়রনে ভরপুর খাবারের মধ্যে অন্তত এক ঘণ্টার ব্যবধান থাকা দরকার।

৪. থাইরয়েডের ওষুধ না খাওয়া: আয়রনের শোষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য থাইরয়েড এবং আয়রনে ভরপুর খাবার খাওয়ার মধ্যে ব্যবধান প্রয়োজন, নয়তো শোষণ ভাল হবে না।

৫. অম্বলের চিকিৎসা করানো: অনেক ক্ষেত্রে অম্বলের সমস্যা ঠিক করলে আয়রনের শোষণক্ষমতা বেড়ে যায়। পাকস্থলীর অ্যাসিড আয়রন শোষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদি পাকস্থলীর অ্যাসিডের মাত্রা কম থাকে, তা হলে হজমশক্তি কম কার্যকর হয়। ফলে শরীর আয়রন শোষণ করতে পারে না বেশি। তাই আগে অম্বলের চিকিৎসা করালে আয়রনের ঘাটতির সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

Women Health Iron Healthy Eating Habit
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy