Advertisement
E-Paper

অজান্তেই কিডনির ক্ষতি করতে পারে শরীরে বাসা বাঁধা অন্য রোগ, কী ভাবে ভাল থাকবে প্রত্যঙ্গটি

কিডনির ক্রনিক অসুখ নিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা। কিডনির অসুখ ধরা পড়তেই কখনও কখনও বহু দিন লেগে যায়। ফলে ক্ষতি হয় অনেকটাই। কোন বিষয়গুলি কিডনির ক্ষতি করতে পারে?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ১৪:৩৭
কিডনির ক্ষতি হতে পারে নিঃশব্দেই। কোন বিষয়গুলি কিডনির জন্য ঝুঁকিপ্রবণ?

কিডনির ক্ষতি হতে পারে নিঃশব্দেই। কোন বিষয়গুলি কিডনির জন্য ঝুঁকিপ্রবণ? ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্ব জুড়েই ক্রমশ বাড়ছে কিডনির অসুখ। পিছিয়ে নেই ভারতও। কিডনির ক্রনিক অসুখ নিয়ে চিন্তিত চিকিৎসকেরাও। কিডনি এমন এক প্রত্যঙ্গ, যা শরীর থেকে দূষিত এবং অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বার করে দিতে সাহায্য করে। তার কার্যকারিতা সামান্য কমে গেলেও বড় ক্ষতি হতে পারে।

তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, কিডনির অসুখ অনেক সময় ধরা পড়ে দেরিতে। কারণ, লক্ষণ প্রকাশ পেতে অনেক সময় দেরি হয়। আবার কখনও রোগী সেই উপসর্গ বুঝতে পারেন না। তবে দ্রুত যদি সমস্যা চিহ্নিত করা যায়, সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব। সেই কারণেই কিডনি, তার ক্ষতির কারণ এবং কী ভাবে প্রত্যঙ্গটি ভাল রাখা যায়, তা নিয়ে সচেতনতা জরুরি।

দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস যেমন কিডনির কার্যক্ষমতা কমাতে পারে, কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে কিডনি নষ্ট হওয়ার, তেমনই অনেক সময় শরীরে বাসা বাঁধা অন্য অসুখও নিঃশব্দে প্রত্যঙ্গটির ক্ষতি করে চলে। ক্ষতি যে হয়েছে, তা বুঝতে দেরি হলে করার কিছুই থাকে না। কিডনি নষ্ট হয়ে গেলে, তা ঠিক করার উপায় থাকে না। তাই চিকিৎসকেরা বার বার সতর্ক করেন দ্রুত রোগ নির্ণয়ের জন্য।

কোন অসুখ নিঃশব্দে কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে

ডায়াবিটিস: অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিস নিঃশব্দেই কিডনির ক্ষতি করতে পারে। ডায়াবেটিকদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকে। সেই মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে গেলে শরীর থেকে তা বার করে দিতে কিডনিকে খাটতে হয় বেশি। ফলে কিডনির উপর চাপ পড়ে। পাশাপাশি, ডায়াবেটিকদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় অনেক সময়। তার ফলে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ে। ডায়াবিটিসের মতো অসুখ এক বার ধরা পড়লে কিডনি নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি।

উচ্চ রক্তচাপ: উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। তা শুধু হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়ায় না, কিডনির সমস্যারও কারণ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ বশে রাখতে না পারলে রক্তবাহী নালিগুলি সঙ্কুচিত হয়ে যায়। কিডনির নালিগুলি সঙ্কুচিত হয়ে গেলে, প্রত্যঙ্গটি রক্ত থেকে দূষিত এবং অপ্রয়োজনীয় পদার্থ সঠিক ভাবে বার করে দিতে পারে না। ফলে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে।

স্থূলত্ব: কমবয়সিদের মধ্যে ক্রমশই বাড়ছে স্থূলত্ব বা ওবেসিটির মতো সমস্যা। ‘দ্যা ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নালের সমীক্ষায় প্রকাশ আগামী দিনে তা মহামারির আকার নিতে চলেছে। যে সমস্ত দেশে স্থূলত্ব বাড়বে, তার মধ্যে আছে ভারতও। অতিরিক্ত ওজন কিডনির কাজের চাপ বাড়িয়ে এবং প্রদাহ বাড়ায়। তা ছাড়া স্থূলত্বের মতো অসুখ ডায়াবিটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও তৈরি করে।

এ ছাড়াও কিডনি বিকল হওয়া ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় হার্টের রোগ। দুর্ঘটনা বা অন্য কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাড়তি সতর্কতা জরুরি। পরিবারে যদি কিডনির অসুখের ইতিহাস থাকে সতর্ক হতে হবে তখনও।

কিডনি বাঁচানোর উপায় কী

যেহেতু কিডনির অসুখ ধরা পড়তেই অনেক সময় দেরি হয়ে যায়, তাই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, হার্টের অসুখ, স্থূলত্বের মতো সমস্যা, পারিবারিক ভাবে কিডনির অসুখের ইতিহাস থাকলে বছরে এক বার কিডনি সংক্রান্ত পরীক্ষা করানো জরুরি। অ্যালবুমিন-ক্রিয়েটিনিন-এর অনুপাত ঠিক আছে কি না, পরীক্ষা করে দেখা দরকার। ইউএসিআর (মূত্র পরীক্ষা), ইজিএফআর-এর মতো রক্তপরীক্ষাও চিকিৎসকের পরামর্শে করানো যেতে পারে।

সুরক্ষার উপায়

দৈনন্দিন জীবনযাপনে যেমন বদল দরকার, তেমনই ডায়াবিটিস, রক্তচাপের মতো অসুখও বশে রাখতে হবে। ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত নুন বা চিনি যুক্ত খাবার, জল কম খাওয়া, জাঙ্ক ফুড, মুঠো মুঠো ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস কিডনির ক্ষতি করে। তাই প্রথমেই দৈনন্দিন জীবনযাপনে কিছু অভ্যাস এড়িয়ে চলতে হবে।

কিডনির সুরক্ষায় যা করতে পারেন

· পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি। জলের মাত্রা খুব কমে গেলে কিডনির কার্যকারিতায় প্রভাব পড়বে। আবার অতিরিক্ত জলও কিডনির উপর চাপ বাড়াতে পারে। ওজন এবং পরিশ্রম বুঝে জল খাওয়া দরকার।

· শরীরচর্চা শুধু ওজন কমাতে সাহায্য করে না, রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে। কিডনি ভাল রাখতে যোগাসন করা যেতে পারে।

· কিডনি ভাল রাখতে হলে পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া দরকার। অতিরিক্ত প্রোটিন অনেক সময় কিডনির উপর চাপ বাড়ায়। তাই প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়ার সময় মাপ বুঝতে হবে। এ ছাড়া, মাছ, ডিম, টাটকা শাক, সব্জি কিডনি ভাল রাখতে সাহায্য করে। এড়াতে হবে প্রক্রিয়াজাত এবং বেশি নুন-চিনি যুক্ত খাবার।

· বছরে এক বার কিডনি সংক্রান্ত পরীক্ষা জরুরি। রক্তচাপ, ওজন, ডায়াবিটিস বশে রাখা প্রয়োজন।

· এড়াতে হবে ধূমপান এবং মদ্যপান।

Kidney Care kidney health
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy