ডায়েট করলেই আলু খাওয়া বন্ধ করেন বহু মানুষ। কারণ, আলুতে রয়েছে শর্করা। আর শরীরে শর্করা জমতে শুরু করলে মেদ বৃদ্ধি হতেও শুরু করে। কিন্তু সত্যিই কি আলু খেলে মেদ বাড়ে। দিনে ক’টি আলু খেলে মোটা হওয়ার ভয় নেই। আলু খাওয়া কতখানি ক্ষতিকর?
আলু খেলে কী কী হতে পারে?
আলু মানেই ক্ষতিকর নয়। বরং আলুর নানা উপকারিতাও রয়েছে। পরিমিত পরিমাণে এবং যথাযথ ভাবে রান্না করে খেতে পারলে আলু খেতে শরীরে নানা উপকারও হতে পারে।
১। আলু শক্তির উৎস। আলুতে থাকা প্রচুর পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগায়। যারা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের জন্য এটি বেশ উপকারী।
২। হজম শক্তি বৃদ্ধি করে আলু। আলুতে থাকা শর্করার বেশির ভাগটাই ফাইবার। যা হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমায়।
৩। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে আলু। কারণ, এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
৪। ত্বকের সুরক্ষায় সাহায্য করে আলু। আলুতে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বৃদ্ধি করতে এবং বয়সের ছাপ দূর করতে সাহায্য করে।
৫। আলুতে আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা হাড় মজবুত রাখতে সহায়তা করে।
দিনে ক’টি আলু খাওয়া যেতে পারে?
নির্দিষ্ট করে সংখ্যা বলা কঠিন। পুরোটাই নির্ভর করবে শরীরের ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের ওপর। তবে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, একজন সুস্থ মানুষ দিনে মাঝারি সাইজের ১ থেকে ২ টি আলু (প্রায় ১০০-১৫০ গ্রাম) অনায়াসে খেতে পারেন।
কী ভাবে খাবেন?
আলুর উপকারিতা পেতে হলে এটি সেদ্ধ করে বা তরকারিতে দিয়ে খাওয়া সবচেয়ে ভালো। আলু ভাজা বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা চিপস খেলে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হয়, কারণ এতে প্রচুর তেল ও ক্যালরি থাকে।
যদি ডায়াবিটিস থাকে
ডায়াবিটিসের রোগীরা অথবা যাঁদের ওজন অনেকটা বেশি, তাঁরা ওজন কমাতে চাইলে কতগুলি আলু খাবেন, তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নিন। কারণ, আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কিছুটা বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।