নতুন বছরে রোগা হওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন, সুস্থ যাপনের ইচ্ছেও রয়েছে, অথচ শাকসব্জি দেখলেই নাক সিঁটকান। অনেকের ক্ষেত্রে শৈশবের অনীহা বড় হওয়া পর্যন্ত গড়িয়ে যায়। অনেকের আবার নতুন করে এই অপছন্দ তৈরি হয়। কিন্তু ফাইবার সমৃদ্ধ শাকসব্জি না খেলে ওজন কমানো বা জটিল রোগ থেকে দূরে থাকা সম্ভব নয়। তবে সেই সমস্ত ব্যক্তির জন্য আশার আলো দেখাচ্ছেন ইংল্যান্ড নিবাসী শল্যচিকিৎসক কর্ণ রাজন।
পছন্দ না হলেও খাওয়ার পাতে শাকসব্জি রাখার এক বিশেষ কৌশলের কথা জানালেন চিকিৎসক। তার জন্য স্বাদকোরকের অভ্যাস বদলের প্রয়োজন। স্বাদকোরকগুলির পছন্দ ও অপছন্দকে নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কর্ণ বলছেন, শাকসব্জির প্রতি এই অনাগ্রহ চিরকালীন না-ও হতে পারে। মানুষের স্বাদের বোধকে নতুন ভাবে গড়ে তোলা যায়। একটু ধৈর্য ধরলে এবং নিয়ম মেনে চললে শাকসব্জির স্বাদ ধীরে ধীরে ভাল লাগতে শুরু করে। তাঁর কথায়, ‘‘সব্জি পছন্দ করার বিষয়টি ইচ্ছাশক্তির উপর নির্ভর করে না, বরং নিউরোপ্লাস্টিসিটি এবং মাইক্রোবায়োম অ্যাডপ্টেশনের এক অদ্ভুত মিশ্রণের উপর নির্ভরশীল।’’
স্বাদকোরকগুলির পছন্দ ও অপছন্দকে নিজের মতো নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ছবি: সংগৃহীত।
চিকিৎসকের দাবি, বিশেষ কৌশল মেনে চললে সব্জি পছন্দ করতে বাধ্য হবে স্বাদকোরক। মানুষের জিহ্বার স্বাদকেন্দ্র স্থির থাকে না। প্রায় ১০-১৪ দিনের মধ্যে এই স্বাদকেন্দ্র বদলে যেতে পারে। অর্থাৎ আজ যে স্বাদ অপছন্দ, কিছু দিন পর সেটিই সহনীয়, এমনকি উপভোগ্যও মনে হতে পারে। নিয়মিত শাকসব্জি খেতে শুরু করলে জিভ ধীরে ধীরে সেই স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টানা কয়েক সপ্তাহ ফাইবারযুক্ত বা তেতো খাবার, অথবা নতুন স্বাদের খাবার খেলে সেই স্বাদই প্রিয় হয়ে ওঠে। এমনকি, তখন অতিরিক্ত মিষ্টি বা নোনতা খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।
শুধু জিভ নয়, মুখের ভিতরে থাকা অদৃশ্য জীবাণুরাও স্বাদের অনুভূতিতে বড় ভূমিকা নেয়। দীর্ঘ দিন ধরে যে খাবার খাওয়া হয়, মুখের জীবাণু সেগুলির সঙ্গেই মানিয়ে নেয়। তাই যাঁরা নিয়মিত আমিষ ভাজাভুজি বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খান, তাঁদের কাছে শাকসব্জি খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু যখন ধীরে ধীরে শাকসব্জি খাওয়া শুরু হয়, তখন মুখের জীবাণুর ধরন পাল্টে যায়। এর ফলেই শাকসব্জির স্বাদ আগের মতো বিরক্তিকর মনে হয় না আর।
আরও পড়ুন:
একটি খাবারকে অন্তত কয়েক বার খেতে হবে। প্রথম বার খারাপ লাগলেই বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত নয়। তা হলে মস্তিষ্ক সেটিকে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য বলে মানতে শেখে। তাই এক বার খেয়ে ভাল না লাগলে সেই খাবারকে একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। ধীরে ধীরে, বার বার চেষ্টা করলে মস্তিষ্ক নতুন স্বাদের সঙ্গে মানিয়ে নেয় বলে মত চিকিৎসকের।