Advertisement
E-Paper

এন্ডরফিন কি ভাল থাকার গোপন জাদুকাঠি! তাকে প্রয়োজনমতো বাড়িয়ে নিতে কী করতে হবে?

সারা দিন ধরেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের হরমোন ক্ষরণ হতে থাকে শরীরে। তার মধ্যেই এক শক্তিশালী হরমোন হল এন্ডরফিন। এই হরমোনের খ্যাতি যদিও ব্যথা কমানোর গুণের জন্য, তবে শুধু সেটুকুই তার পরিচয় নয়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:১১
ব্যথা ভুলিয়ে মন ভাল করবে এন্ডরফিন!

ব্যথা ভুলিয়ে মন ভাল করবে এন্ডরফিন! ছবি: সংগৃহীত।

মনমেজাজ থেকে শরীর-স্বাস্থ্যের ভাল থাকা বা মন্দ থাকা সবই পুতুলনাচের অদৃশ্য সুতোর মতো নিয়ন্ত্রণ করে শরীর নিঃসৃত কিছু হরমোন। সকাল থেকে রাত যা যা করছেন, ভাবছেন, রাগছেন, কাঁদছেন, ব্যথা পাচ্ছেন সবের জন্যই দায়ী তারা। সারা দিন ধরেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের হরমোন ক্ষরণ হতে থাকে শরীরে। তার মধ্যেই এক শক্তিশালী হরমোন হল এন্ডরফিন। যদিও এই হরমোনের খ্যাতি এর ব্যথা কমানোর গুণের জন্য তবে অনেকে একে ‘হ্যাপি হরমোন’ও বলেন। মানসিক চাপ যখন বাড়ে বা শরীরে কোনও রকম ব্যথা অনুভূত হয়, তখন মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এন্ডরফিন হরমোন, যাতে শরীর-মস্তিষ্ক নিজেকে সামলে নিতে পারে। অর্থাৎ এন্ডরফিনের হাতে রয়েছে ভাল থাকার চাবিকাঠি। কিন্তু সেই হরমোনের ক্ষরণ বা কার্যকারিতা কি ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে নেওয়া যায়?

এন্ডরফিন বৃদ্ধির উপায়

জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনে এন্ডরফিনের মাত্রা বাড়িয়ে নেওয়া যেতেই পারে। তবে তার জন্য নিজেকে কিছুটা চেষ্টা করতে হবে।

Advertisement

১। নিয়মিত ব্যায়াম করা, দৌড়োনো বা দৈনিক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত হাঁটা অভ্যাস করলে শরীরে এন্ডরফিন বাড়ে।

২। প্রাণ খুলে হাসলে মস্তিষ্ক দ্রুত এন্ডরফিন নিঃসরণ করে। এ ছাড়া বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা বা মজার কোনও বই পড়া, সিনেমা দেখলেও এন্ডরফিনের মাত্রা বাড়তে পারে।

৩। ডার্ক চকলেট খেলে শরীরে এক ধরনের উদ্দীপনা তৈরি হয়, যা এন্ডরফিন বৃদ্ধিতে সহায়ক। একই উদ্দীপনা ঝাল জাতীয় খাবার খেলেও হয়। তাই ঝাল খেলেও এন্ডরফিন বাড়ে।

৪। পছন্দের গান শুনলে, বিশেষ করে গানের তালে শরীর নাড়ালে বা নাচলে মানসিক শান্তি আসে এবং এন্ডরফিনের মাত্রাও বাড়ে।

৫। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করলে অথবা ধ্যান করলেও মানসিক চাপ কমে, যা পরোক্ষভাবে এন্ডরফিন বৃদ্ধি করে।

৬। সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন-ডি তৈরির পাশাপাশি এন্ডরফিন ও সেরোটোনিন নিঃসরণেও সাহায্য করে।

এন্ডরফিন বাড়লে কী কী লাভ হয়?

১। এটি মরফিনের মতো কাজ করে, যা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী বা তাৎক্ষণিক ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

২। মানসিক চাপের হরমোন কর্টিসল কমিয়ে মনকে শান্ত রাখে এবং উদ্বেগ দূর করে।

৩। এন্ডরফিনের ক্ষরণ বাড়লে শরীরে এক ধরনের ভাল লাগার বোধ তৈরি হয় যা আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।

এন্ডরফিন কখন চিন্তার?

প্রাকৃতিকভাবে এন্ডরফিন বাড়লে সাধারণত কোনও ক্ষতি হয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়তে পারে।

১. অনেকেই ব্যায়াম বা কোনও রোমাঞ্চকর কাজের মাধ্যমে এন্ডরফিন পেতে পেতে এক রকম নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। এমনও হতে পারে কোনও এক দিন ব্যায়াম না করলে মেজাজ খারাপ হল। এই ধরনের নেশাকে ইতিবাচক বলে ভাবা হলেও অতিরিক্ত ব্যায়ামও শরীরের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

২. কেউ যদি কৃত্রিম উপায়ে বা ওষুধের মাধ্যমে এন্ডরফিন প্রয়োজনের অতিরিক্ত বাড়িয়ে নেন, তবে এমনও হতে পারে শরীরে অতিরিক্ত মাত্রায় এন্ডরফিন থাকায় গুরুতর আঘাত পেলেও সঠিক সময়ে ব্যথা অনুভব করলেন না। সেক্ষেত্রে তা বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

Happy hormone
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy