প্রবল গরমে সর্দি-গর্মি হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তা ছাড়া অ্যালার্জিও হতে পারে পরিবেশের দূষণের কারণে। ধুলো, পরাগরেণু, ঠান্ডা লাগা, অ্যালার্জি— এমন যে কোনও পরিস্থিতিতেই হাঁচির মতো উপসর্গ বড়ই অস্বস্তিকর। সারা দিনে এক-দু’বার হাঁচি হলে সে দিকে নজর না দিলেও চলে। কিন্তু যদি অবিরাম হাঁচি চলতেই থাকে, তা হলে সমস্যাজনক। ঘুম হোক বা অফিসে বসে কাজ করা, রাস্তা দিয়ে হাঁটা হোক বা সিনেমা দেখা, সব কিছুতেই ব্যাঘাত ঘটতে পারে হাঁচির চোটে। এ দিকে অ্যালার্জির ওষুধ সকলের জন্য উপযুক্ত নয়, অথবা নাগালে না-ও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে কী ভাবে হাঁচির দমক থামাবেন? আর কী ভাবেই বা এই সমস্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমাবেন?
হাঁচি আসলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা। নাকের ভিতরে কোনও উত্তেজক বস্তু ঢুকলে শরীর সেটিকে বার করে দেওয়ার চেষ্টা করে। তাই প্রথমেই বোঝা জরুরি, সমস্যার কারণ কী। ঠান্ডা লেগে, না কি অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া হিসেবে, কী কারণে হাঁচি হচ্ছে জেনে গেলে সেই মতো পদক্ষেপ করা যেতে পারে।
একটানা চলতে থাকা হাঁচি থামানোর কয়েকটি পন্থা
১. গরম ভাপ: নাক বন্ধ, নাক দিয়ে জল পড়া বা বার বার হাঁচি হলে গরম জলের ভাপ অনেক সময় আরাম দিতে পারে। অনেক সময়ে ডিহাইড্রেশনের কারণে শ্লেষ্মা ঘন হয়ে যায় এবং সাইনাস ও নাকের বায়ুপথ বন্ধ করে দেয়। সেই সময়ে গরম বাষ্পের সংস্পর্শে এলে নাকের ভিতরের জমে থাকা শ্লেষ্মা নরম হয়, শুষ্ক ভাব কমে, শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। ভাপের বদলে গরম জলে স্নান করলেও উপকার মিলতে পারে। এরই ফলে হাঁচির সমস্যা দূর হতে পারে।
বাষ্পের সাহায্যে হাঁচি থামান। ছবি: সংগৃহীত
২. জ়িঙ্ক: শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে জ়িঙ্ক। রাইনোভাইরাসের বংশবৃদ্ধি আটকে দিয়ে প্রতিরোধ তৈরি করে এই খনিজ। চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নিয়মিত জ়িঙ্ক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে সর্দি, কাশি, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে জল পড়া, হাঁচি ইত্যাদির সমস্যা কমে যাবে।
৩. ভিটমিন সি: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে মজবুত করতে পারে ভিটামিন সি। আলাদা করে হাঁচি কমানোর জন্য ব্যবহার হয় না, কিন্তু সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভাল হয় বলে ঘুরপথে তা কার্যকরী। রোগের কারণে যদি কোষের ক্ষয় হয়, তা হলে ফ্রি র্যাডিকাল তৈরি হয়ে শরীরে প্রদাহ শুরু হয়। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারগুলি ফ্রি র্যাডিকালের সঙ্গে লড়াই করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারে মুক্তি। ছবি: সংগৃহীত
৪. গরম সেঁক: নাক বন্ধ, হাঁচি, সাইনাসের সমস্যা ইত্যাদি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া যেতে পারে গরম সেঁকের সাহায্যে। গরম ভাপের মতোই সেঁকেও উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে শ্লেষ্মা নরম হয়। একটি তোয়ালে গরম জলে ডুবিয়ে, তার পর জল নিংড়ে নিয়ে সেঁক দিতে পারেন মুখে। তাতে আরাম মিলতে পারে।
৫. বিশ্রাম: অনেক সময়ে এই সমস্ত অস্বস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে কেবল বিশ্রামেই। ক্লান্ত শরীরে অ্যালার্জেন বা আবহাওয়ার পরিবর্তন দ্রুত প্রভাব ফেলে। সংক্রমণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয় দেহে। তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা দরকার। ঘুমোনোর সময়ে কোষ মেরামতির কাজ হয় আর তার ফলে মজবুত হয় শরীর। ঘুম থেকে উঠে হয়তো অনবরত হাঁচির মতো সমস্যা কমে যেতে পারে।
৬. আদা ও মধু: আদায় থাকা প্রদাহরোধী উপাদান (জিঞ্জেরল এবং শোগায়োল) গলা ও নাকের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। অন্য দিকে, ধুলোবালি বা অ্যালার্জির কারণে সৃষ্ট হাঁচি ও সর্দির সমস্যায় মধু প্রাকৃতিক অ্যান্টিহিস্টামিনের মতো কাজ করে। হালকা গরম জলে আদা ও মধু মিশিয়ে খেলে আরাম পান অনেকেই। তবে তার আগে এই ঘরোয়া টোটকা সম্পর্কে চিকিৎসকের মতামত জেনে নেওয়া উচিত।
৭. জলপান: শরীরে জলের ঘাটতি হলেও নাক ও গলার ভিতরের অংশ শুকিয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত জল খাওয়া জরুরি। ডাবের জল, পাতলা স্যুপ বা গরম ভেষজ চা-ও উপকারী হতে পারে। এর ফলে নাকের ভিতরের অংশ আর্দ্র হয় এবং সংক্রমণের প্রভাব কমায়।
৮. ঘর পরিষ্কার: আপনার ঘরের ধুলোর কারণে বা পোষ্যের লোম থেকে অ্যালার্জির সমস্যা হচ্ছে না তো? সে ক্ষেত্রে ঘরদোর পরিষ্কার রাখা দরকার। বালিশের কভার, বিছানার চাদর, পর্দা ইত্যাদি নিয়মিত পরিষ্কার করে রাখা উচিত। অন্য দিকে, পোষ্যের যত্ন নেওয়া উচিত নিয়মিত এবং শোয়ার ঘর থেকে তাদের দূরে রাখা উচিত।