প্রোটিনে ভরপুর। ভিটামিন কে, ফোলেট, কপার, ফসফরাস–সহ রকমারি খনিজে ভর্তি। আছে ফাইবারও। স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া সয়াবিন উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের অন্যতম উৎস। প্রতি ১০০ গ্রাম সয়াবিনে প্রোটিনের পরিমাণ ৪৩ গ্রাম। শর্করা রয়েছে ৩০ গ্রাম। ফ্যাট ২০ গ্রাম। ক্যালোরি ও পুষ্টিগুণের হিসাবে এই খাদ্য অনেক পুষ্টিবিদেরই প্রথম পছন্দ। নিরামিষ খান যাঁরা অথবা ভিগান, কোনও রকম প্রাণিজ খাবারই মুখে তোলেন না, তাঁদের জন্য প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর জন্য আদর্শ খাবার সয়াবিন। কিন্তু তা কি রোজ খাওয়া যেতে পারে? সয়াবিন নিয়ে নানা জনের নানা মত। সত্যিটা কী?
১। কেউ কেউ বলেন, সয়াবিন বা সয়াদানা নিয়ম করে খেলে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এতে রয়েছে আইসোফ্ল্যাভন, যা হরমোনের মাত্রা বিগড়ে দিতে পারে। তবে এই ব্যাপারে তেমন কোনও তথ্যপ্রমাণ মেলেনি।
২। কারও কারও ধারণা সয়াবিন খেলে থাইরয়েড বাড়ে। কারণ এতে আছে আইসোফ্ল্যাভন, যা থাইরয়েড হরমোনের তৈরির নেপথ্যে থাকা কিছু উৎসেচককে প্রভাবিত করে। তবে সমস্যা তৈরি হয় শরীরে আয়োডিনের অভাব হলে। না হলে, তেমন কোনও প্রভাব পড়ে না।
৩। অনেকে মনে করেন আয়রন, জ়িঙ্কের মতো খনিজের পুষ্টি শোষণে বাধা দেয় সয়াবিন। সয়াবিনে থাকা ফাইটেটের কারণেই এমন সমস্যা হয়। তবে গবেষণায় উঠে এসেছে এক সঙ্গে অনেকটা সয়াবিন খেলে তবেই সমস্যা হতে পারে।
সয়াবিনের গুণ অনেক। হার্ট এবং লিভার ভাল রাখতে সাহায্য করে। প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে পেশি সবল রাখে।মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতেও সয়াবিন ভাল। ফলে নিয়ম করে সয়াবিন খাওয়ায় তেমন কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু বেশি পরিমাণে নয়। আবার প্রতি দিন একই খাবার খেলে স্বাদের দিক দিয়ে একঘেয়ে হয়ে যেতে পারে। প্রোটিনের চাহিদাপূরণ লক্ষ্য হলে পাতে রাখা যায় পনির, টোফু, রকমারি ডালও।
উপকারী হলেও সয়াবিন সকলের খাওয়া চলে না। কিডনির সমস্যা থাকলে, থাইরয়েড অত্যন্ত বেশি হলে বা বিশেষ কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে সয়াবিন নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়।