Advertisement
E-Paper

৯৮ শতাংশ মানুষের রক্তে মিশছে ক্ষয়হীন বিষাক্ত রাসায়নিক, নতুন স্বাস্থ্য সঙ্কটের ইঙ্গিত দিলেন গবেষকেরা

৯৮.৮ শতাংশ মানুষের রক্তে পাওয়া গিয়েছে বিশেষ এক রকম রাসায়নিক। সেটির ক্ষয় নেই, উচ্চতাপেও নষ্ট হয় না। কী সেটি? বিশ্ব জুড়ে নতুন স্বাস্থ্য সঙ্কটের ইঙ্গিত দিলেন গবেষকেরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১৬:১০
রক্তে মিশছে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’, কী সেটি?

রক্তে মিশছে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’, কী সেটি? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অজান্তেই এক নীরব ঘাতক প্রবেশ করছে শরীরে। প্রায় ৯৮.৮ শতাংশ মানুষের রক্তে পাওয়া গিয়েছে এক বিশেষ রকম ক্ষয়হীন রাসায়নিক, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ফরএভার কেমিক্যাল’। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য। এই রাসায়নিকের মাত্রা বাড়তে থাকলে নতুন স্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হবে বলেও আশঙ্কা করছেন গবেষকেরা।

কী রাসায়নিক মিশছে রক্তে?

রাসায়নিকটির নাম ‘ফরএভার কেমিক্যাল’। সেটিকে বলা হয় ‘পার অ্যান্ড পলিফ্লুরোঅ্যালকাইল সাবস্ট্যান্সেস' (পিএফএএস)। বেশির ভাগ রাসায়নিক যৌগেরই ক্ষয় হয়, মাটিতে মিশে গিয়ে বা জলে দ্রবীভূত হয়ে যায় বা উচ্চতাপে নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু পিএফএএসের ক্ষয় নেই। জল বা তাপে এর কিছুই হয় না। ফলে রক্তে মিশে গেলে সেটি সহজে বিনষ্ট হয় না। ওষুধেও একে নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন।

পিএফএএসের অধীনে অসংখ্য যৌগ রয়েছে। এদের আণবিক গঠনে কার্বন ও ফ্লোরিন এত শক্ত বাঁধনে বেঁধে যাকে যে, সেগুলিকে ভেঙে ফেলা কঠিন। ফলে এই রাসায়নিকগুলি পরিবেশে মিশলে তাদের ক্ষয় হয় না। এরা তাপরোধীও। তাই পরিবেশে এগুলি অবিকৃতই থেকে যায়। সে কারণেই এদের বলা হয় ‘ফরএভার কেমিক্যল’। মানুষের রক্তেও এদের খোঁজ পাওয়ার পর থেকে স্বভাবতই চিন্তা বেড়েছে গবেষকদের। আশঙ্কা, পিএফএস যদি মাত্রাতিরিক্ত রক্তে মিশতে থাকে, তা হলে শরীরের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে একে একে বিকল করতে শুরু করবে।

কোথা থেকে শরীরে ঢুকছে পিএফএস?

পরিধানের ওয়াটারপ্রুফ বা রেনকোট জাতীয় পোশাক, আসবাবপত্রের রং বা সোভার কভার, কার্পেট ও বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনীতে ব্যবহৃত আঠা থেকে শরীরে ঢুকছে।

ফাস্টফুডে মেশানো কৃত্রিম রং, প্যাকেজিং, পিৎজ়ার বাক্সেও পাওয়া গিয়েছে পিএফএএস। খাবার ভরার কন্টেনারের ভিতরেও এর পরত থাকে, যা থেকে তা খাবারে মিশে যায়।

নন-স্টিক বাসনপত্রে টেফলন থাকে, যা পিএফএএসেরই একটি ধরন। তা থেকেও শরীরে ঢোকে এই রাসায়নিক।

নানা ধরনের প্লাস্টিকের প্যাকেজিং, প্যাকেট এবং প্লাস্টিকজাত পণ্য থেকে এই রাসায়নিক শরীরে ঢুকতে পারে।

বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার থেকে বা কীটনাশক থেকে এই ধরনের রাসায়নিক মাটি ও জলে মিশে যায়, যা পরবর্তীতে শস্য, মাছ বা গবাদি পশুর শরীরেও জমা হয়। সেখান থেকে মানুষের শরীরেও ঢুকে যায় ও সরাসরি রক্তে গিয়ে মেশে।

পিএফএএস রক্তে মিশতে থাকলে প্রথমে হার্ট ও লিভারের ক্ষতি করবে। ধীরে ধীরে কিডনি বিকল করতে শুরু করবে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাবে। ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়বে এবং জটিল স্নায়বিক রোগের প্রকোপও বাড়বে।

Chemicals Plastic pollution
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy