সজনে দিয়ে তৈরি হচ্ছে স্যানিটারি ন্যাপকিন! চিকিৎসক থেকে সাধারণের নজর কেড়েছে বিশেষ এই স্যানিটারি প্যাড। একে প্রাকৃতিক উপাদান, তায় ‘সুপারফুড’ সজনের গুণ মিলছে নতুন ধরনের প্যাডে। যার ফলে ঋতুস্রাবের সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকি কমছে বলে মত চিকিৎসকদের।
ঋতুস্রাবের সময়ে প্রতি মাসে বেশ কিছু দিন ধরে একটানা প্যাড ব্যবহারের ফলে শরীরের ওই বিশেষঅংশে আর্দ্রতা জমে থাকে। এই পরিবেশ ব্যাক্টেরিয়া ও ছত্রাক বৃদ্ধির পক্ষে অনুকূল। বহু সাধারণ স্যানিটারি প্যাডে ব্যবহৃত কৃত্রিম উপাদান, সুগন্ধি বা রাসায়নিকের কারণে অনেকের ত্বকে লালচে ভাব, জ্বালা, চুলকানি কিংবা ফুস্কুড়ি দেখা দেয়। প্যাডের উপরের আস্তরণ একটানা ত্বকের সংস্পর্শে থাকে। প্রতি মাসে এই এক অস্বস্তির সঙ্গে যুঝতে যুঝতে ক্লান্ত মহিলারা। অনেকেই এ কারণে মেনস্ট্রুয়াল কাপ বা ট্যাম্পন ব্যবহার শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু যাঁদের জন্য মেনস্ট্রুয়াল কাপ বা ট্যাম্পন উপযুক্ত নয়, বা যাঁরা মেনস্ট্রুয়াল কাপের সঙ্গেও প্যাড ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য সাধারণ প্যাড ভাল নয়।
ঋতুস্রাবের সময়ে ত্বকের যত্ন নিন। ছবি: সংগৃহীত।
আর সেখানেই সুরাহা হিসেবে সজনে-ভিত্তিক এই স্যানিটারি ন্যাপকিনের ব্যবহার বাড়াতে বলছেন চিকিৎসক থেকে সাধারণেরা। প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ফলে ত্বকের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয় এ ক্ষেত্রে। এর ফলে দ্রুত ত্বক শুষ্ক হতে পারে না। আসলে সজনে পাতায় থাকা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক ও প্রদাহনাশী গুণ সেই সমস্যার মোকাবিলায় সাহায্য করতে পারে। ফলে সংক্রমণের আশঙ্কা তুলনায় কমে এবং অস্বস্তিও অনেকটাই হ্রাস পায়।
চিকিৎসকদের দাবি, সজনে পাতার অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণ শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ক্ষমতাকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। তার প্রভাব পড়ে ঋতুস্রাব সময়কালীন স্বাস্থ্যেও। মূত্রনালির সংক্রমণ বা ব্যাক্টেরিয়াজনিত সমস্যার ঝুঁকিও কমতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা। বিশেষ করে যাঁদের ঘন ঘন মূত্রনালির সমস্যা দেখা দেয়, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্যাড উপকারী হতে পারে।
আরও পড়ুন:
যদিও সজনে-ভিত্তিক স্যানিটারি প্যাড নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার দরকার, তবু চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বলছে, ঋতুস্রাব চলাকালীন যৌনাঙ্গের ত্বকের পরিচর্যায় প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে। আর সেই পরিবর্তনের ধারায় সজনে ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে সচেতন, নিরাপদ আর ত্বক-বান্ধব বিকল্প।