ভাত খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে এনেছেন সারা দিনে এক কাপে! অথচ প্রাতরাশে কিংবা টিফিনে খাচ্ছেন চিঁড়ের পোলাও। তাতে কি ওজন বৃদ্ধির সমস্যা বা রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধির সমস্যা একটুও কমছে? রন্ধনশিল্পী সঞ্জীব কপূর বলছেন, কমছে না। তাঁর মত, ভাত যদি খারাপ হয় তবে চিঁড়ে খারাপতর। চিঁড়ে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ভাতের থেকেও দ্রুতগতিতে বাড়ে।
রান্নার জগতে সঞ্জীব কয়েক যুগ কাটিয়ে ফেলেছেন। ফলে তাঁর অভিজ্ঞতা বিপুল। যেহেতু খাবার নিয়েই তাঁর কাজ, তাই প্রতিটি খাবারের পুষ্টিগুণ, শরীরে তার কেমন প্রভাব— সেই সবকিছু নিয়েই জানতে হয় রন্ধনশিল্পীদের। সেই ধারণা থেকেই সঞ্জীব জানিয়েছেন তাঁর মতামত। সঞ্জীব বলেছেন, ‘‘প্রাতরাশে যদি খালি পেটে চিঁড়ে খান, তবে সুগার (উপরের দিকে আঙুলের ইঙ্গিত করে) ওই খানে উঠবে।’’ কিন্তু তাঁর তত্ত্বটি কতটা সত্যি? যাঁরা ভাত খাওয়া কমিয়েছেন, তাঁদের চিঁড়ে খাওয়াও কি বন্ধ করা উচিত?
চিঁড়েয় শর্করার মাত্রা কি অনেকটা বেশি?
১০০ গ্রাম রান্না করা চিঁড়েয় ক্যালোরি ১৫০ কিলোক্যালোরি
কাঁচা চিঁড়েয় ক্যালোরি ৩৫০ কিলো ক্যালোরি
শর্করা— ৭৭ গ্রাম (কাঁচা), ২৫ গ্রাম (রান্না করা)
প্রোটিন— ৭ গ্রাম (কাঁচা), ৩ গ্রাম (রান্না করা)
ফ্যাট— ১ গ্রাম (কাঁচা)
আয়রন— ৪.৫ মিলিগ্রাম (কাঁচা), ৬ মিলিগ্রাম (রান্না করা)
এ ছাড়া কিছু বি ভিটামিন রয়েছে চিঁড়েতে।
পুষ্টিবিদ কী বলছেন?
সঞ্জীবের সঙ্গে সহমত নন পুষ্টিবিদ রায়ান ফার্নান্দো। রায়ান জানাচ্ছেন, চিঁড়ে অবশ্যই চালকে মেশিনের সাহায্যে চ্যাটালো বানিয়ে তৈরি করা হয়। আর এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই যে ওটি ‘রিফাইন্ড কার্ব’ অর্থাৎ ওতে থাকা শর্করায় ফাইবারের মাত্রা কম। কিন্তু চিঁড়েকে ভাতের থেকেও খারাপ বলার আগে দেখতে হবে, সেটি কী ভাবে তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর মত, ‘‘চিঁড়েকে ভাতের সঙ্গে খারাপ বলাটা একটু বেশি সোজাসাপ্টা হয়ে যাবে। চিঁড়ে খেয়ে ভাতের থেকেও দ্রুত শর্করা বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে কী ভাবে সেটি বানানো হচ্ছে, কীসের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে আর কতটা খাওয়া হচ্ছে তার উপর।’’
রায়ানের মতে, চিঁড়ে যদি অল্প পরিমাণে খাওয়া হয়, সঙ্গে বাদাম, এবং অন্যান্য সব্জির মতো ফাইবার মেশানো হয়, সঙ্গে দই থাকে, তবে তা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়বে না।