খেয়েদেয়ে ভুঁড়ি যত সহজে হবে, তা কমানোর পথটা ততটাই কষ্টসাধ্য। শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে পেটের মেদ ঝরানো বেশি কঠিন কাজ। জিম করে সারা শরীরের মেদ ঝরিয়ে ফেললেও পেটের মেদ কমাতে নাজেহাল হয়ে যেতে হয়। অনেকেই বলবেন, ডায়েট করলেই তা সম্ভব। তবে কম খেয়ে বা একবেলা উপোস দিয়ে ওজন হয়তো কমবে, তবে ভুঁড়ি সহজে কমবে না। উল্টে শরীরও দুর্বল হয়ে পড়বে। তার চেয়ে পছন্দের খাবার খেয়েও ভুঁড়ি কমাতে পারেন। সে জন্য রোজ সকালে বা বিকেলে যোগাসন অভ্যাস করতে হবে। সহজ কিছু পদ্ধতি অভ্যাস করতে পারলে পেট ও কোমরের মেদ কমে ছিপছিপে গড়ন আসবে।
কোন কোন আসন অভ্যাসে পেটের মেদ কমবে?
অর্ধ্ব পার্শ্ব চক্রাসন
প্রথমে ম্যাটের উপর দাঁড়িয়ে দু’টি পায়ের পাতা জোড়া করুন। হাত দু’টি থাকবে দু’পাশে। এ বার কনুই দু’টি ভাঁজ করে হাতের তালু পিঠের নীচের দিকে রাখুন। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন। কোমর থেকে শরীরের উপরের অংশ পিছনের দিকে হেলিয়ে দিন। এর পর শরীরের ভারসাম্য ঠিক রেখে এই ভঙ্গিতে কিছু ক্ষণ থাকার চেষ্টা করুন। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিতে নিতেই প্রাথমিক অবস্থানে ফিরে আসুন। ৬-৭ বার এই আসনটি অভ্যাস করুন।
আরও পড়ুন:
কুম্ভকাসন
ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘প্ল্যাঙ্ক পোজ়’। এই ব্যায়ামটি করার জন্য প্রথমে ম্যাটে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। তার পর কনুইয়ে এবং পায়ের আঙুলের উপর ভর দিয়ে সমান্তরাল ভাবে গোটা দেহ মাটি থেকে তুলে ধরুন। এই অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন। ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারেন।
ত্রিকোণাসন
এই আসনটি করতে প্রথমে দুই পায়ের মধ্যে ব্যবধান রেখে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। এ বার হাত দুটি দু’পাশে লম্বা করে দিন। বাঁ পাশে শরীর বেঁকিয়ে বাঁ হাত দিয়ে বাঁ পায়ের আঙুল স্পর্শ করুন। ডান হাতটি উপরের দিকে একেবারে সোজা করে রাখতে হবে। হাঁটু ভাঙলে চলবে না। কয়েক মুহূর্ত এমন থাকার পর সোজা হয়ে দাঁড়ান। একই ভাবে ডান হাত দিয়ে ডান পায়ের আঙুল স্পর্শ করুন। প্রতি দিন কমপক্ষে ৩ বার এই আসনটি করুন। মেদ ঝরানোর পাশাপাশি হজম ক্ষমতা উন্নত করতেও সাহায্য করে এই আসন।