সিঁড়ি ভাঙার সময়ে হাঁপিয়ে যাওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে কত ধাপ সিঁড়ি ভাঙার পরে তা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এক ধাপ বা দুই ধাপ সিঁড়ি ভাঙার পর থেকেই যদি শ্বাস নিতে কষ্ট হতে থাকে, তখন বিষয়টি চিন্তার। শ্বাসকষ্ট মানেই ভেবে নেওয়া হয় তা হাঁপানি বা সিওপিডির কারণে হচ্ছে। সব সময়ে তা না-ও হতে পারে। আরও অনেক কারণ থাকে, যাতে শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। সর্দিকাশি, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিসে যেমন শ্বাসকষ্ট হয় তেমনই হৃদ্রোগের কারণেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। পেটের সমস্যা, গ্যাস, হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি, রক্তাল্পতা, কিডনির রোগে এমনকি অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কখন তা চিন্তার? কখন বুঝবেন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?
শ্বাসকষ্ট কী কী কারণে হতে পারে?
হার্টের রোগে
সিঁড়ি ভাঙার সময়ে বা রাতে শুয়ে থাকার সময়ে শ্বাসকষ্ট হলে সাবধান হতে হবে। এর কারণ হতে পারে হার্টের দুর্বলতা। যখন হার্টের বাম অলিন্দ ও নিলয় সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো করতে পারে না, তখন তা ফুসফুসের রক্তনালিতে জমা হতে থাকে। একে বলে ‘পালমোনারি কনজ়েশন’। এই কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং তা বেশি হলে প্রাণসংশয়ও হতে পারে। হৃদ্রোগের কারণে শ্বাসকষ্ট বোঝার আরও কিছু উপায় আছে। এ ক্ষেত্রে হাত-পা ফুলে যেতে পারে, শরীরে জল জমার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পরিশ্রমের সময়ে শ্বাসকষ্ট বেশি হবে এবং মধ্যরাতে দরদর করে ঘাম ও শ্বাসের সমস্যা হতে পারে।
রক্তাল্পতার কারণে
হাঁপানি বা ফুসফুসের রোগ ছাড়াই কেবল শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে গেলে তীব্র শ্বাসকষ্ট হতে পারে। রক্তের লোহিত রক্তকণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন ফুসফুস থেকে অক্সিজেন নিয়ে সারা শরীরে পৌঁছে দেয়। এর মাত্রা কমে গেলে তখন কোষে কোষে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়। ফলে সামান্য পরিশ্রমেই দ্রুত হাঁপ ধরে যায়। বুক ধড়ফড় করে, এমনকি শ্বাসকষ্টও শুরু হয়।
আরও পড়ুন:
মনের রোগও কি কারণ?
প্যানিক ডিজ়অর্ডার, অবসাদ বা অ্যাংজ়াইটি নিউরোসিস মনের রোগ। এর থেকেও দমবন্ধ লাগে। শ্বাসের সমস্যা হয়। এতে শারীরিক প্রয়োজনের চেয়ে বেশি করে শ্বাস নেওয়ার জন্য রক্তের কার্বন ডাই-অক্সাইড শ্বাসের সঙ্গে অত্যধিক মাত্রায় বেরিয়ে যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, উৎকণ্ঠা আর ভয় পেলে প্রায় ২৫ থেকে ৮৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এক ধরনের শ্বাসকষ্ট অনুভূত হয়, যার কোনও শারীরিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
অ্যাসিড রিফ্লাক্স
রাতের বেলার শ্বাসকষ্ট বেশি হলে বুঝতে হবে সমস্যা শুধু ফুসফুসের নয়, পাকস্থলীরও। রাতে শুয়ে থাকার সময়ে পাকস্থলীর অ্যাসিড উল্টো পথে খাদ্যনালি বেয়ে উপরের দিকে উঠে আসে। কোনও ভাবে এই অ্যাসিড শ্বাসনালিতে ঢুকলে সেখানে তীব্র প্রদাহ হয় ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। গভীর ঘুমের মধ্যে রাতে আচমকা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ও সেই সঙ্গে গলা-বুক জ্বালার অনুভূতি হলে সতর্ক হতে হবে।