একসময়ে যে খাবারের দিকে বহু লোক ফিরেও চাইতেন না, এখন সেই খাবারই বিক্রি হচ্ছে ঝাঁ চকচকে মলে। জোয়ার, বাজরা, রাগি এখন জায়গা করে নিচ্ছে স্বাস্থ্যসচেত মানুষের খাদ্যতালিকায়। জোয়ার-বাজরার আটা দিয়ে তৈরি রুটি মোটা হত বলে, অনেকে খেতে চাইতেন না। এখন সেই মিলেট দিয়েই তৈরি হচ্ছে রকমারি খাবার। কারণ একটিই, এই তিন খাবারের পুষ্টিগুণ, যা নিমেষে ছাপিয়ে যেতে পারে গমের আটাকেও। তার উপর রাগি গ্লুটেনমুক্ত, ফলে যাঁদের গ্লুটেন জাতীয় খাবার খেলে পেটের সমস্যা হয়, তাঁরা নিশ্চিন্তে এগুলি দৈনন্দিন খাবার হিসাবে জুড়তে পারছেন। এখন প্রশ্ন হল, এই তিন ধরনের উপকরণের মধ্যে আপনার স্বাস্থ্যের উপযোগী কোনটি? বেঙ্গালুরুর পুষ্টিবিদ অঞ্জু সুদ জানাচ্ছেন, কোন ধরনের দানাশ্যসের কী গুণ, কারা কোনটি খাবেন।
জোয়ার: কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, ফাইবারে পূর্ণ জোয়ার। ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম, ফাইবার, ফসফরাস, জিঙ্কে সমৃদ্ধ জোয়ার ডায়াবিটিস রোগীদের জন্যেও উপকারী। গমের আটার মতো জোয়ারের আটায় গ্লুটেন থাকে না। ফলে গমের আটা সহ্য না হলেও জোয়ারের আটার রুটি বা জোয়ার দিয়ে তৈরি খাবার তাঁরা পাতে রাখতে পারেন। ফাইবার আছে বলে পেট ভরাতে সাহায্য করে। জোয়ার জাতীয় খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রাও চট করে বৃদ্ধি পায় না। ফলে যাঁদের হজমে খানিক সমস্যা রয়েছে বা গমের আটা খেলে সহ্য হয় না তাঁরা এটি খেতে পারেন। ফাইবার আছে, বলে তা পেট পরিষ্কারেও সাহায্য করে।
আরও পড়ুন:
রাগি: ক্যালশিয়ামে সমৃদ্ধ রাগিও পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে ডায়েটরি ফাইবারের মাত্রাও যথেষ্ট। এ ছাড়া পাওয়া যায় আয়রন, প্রোটিন। ফলে ওজন কমানোর যাঁরা চেষ্টা করছেন তাঁরা তালিকায় রাখতে পারেন রাগির তৈরি খাবার। খিচুড়ি, উপমা, রুটি— রাগি দিয়ে রকমারি খাবারই হতে পারে। আয়রন এবং ক্যালশিয়ামের অন্যতম ভাল উৎস, ফলে রক্তল্পতা থাকলে বা ক্যালশিয়ামের অভাব হলে রাগি রাখা যায় পাতে। তবে জোয়ারের চেয়ে রাগি একটু বেশি ভারী। ফলে হজমের সমস্যা থাকলে, অল্পমাত্রায় খাওয়া ভাল।
বাজরা: কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফাইবারের পাশাপাশি বাজরা ম্যাগনেশিয়ামের ভাল উৎস। এ ছাড়াও মেলে জিঙ্ক এবং আয়রন। ম্যাগনেশিয়াম স্নায়ুর কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হার্ট ভাল রাখতেও বাজরায় থাকা পুষ্টিগুণ কার্যকর। শীতের দিনে শরীর গরম রাখতেও এটি সাহায্য করে।
যে কোনও নতুন খাবার শুরু করার সময় প্রথমেই অল্প খাওয়া দরকার। উপকারী হলেও যে কোনও খাবার সকলের শরীরে সহ্য হয় না। এই তিনটির মধ্যে যে কোনও একটি বেছে নিতে পারেন। আবার তিন খাবার মিলিয়ে মিশিয়ে খাওয়া চলে। কেউ যদি রাতে বাজরার আটার রুটি খান, তিনি দিনে রাগির খিচুড়ি কিংবা প্রাতরাশে রাগির ইডলি খেতে পারেন। আবার স্বাদ বদলে জোয়ার এবং বাজরার রুটি এক মাস অন্তর পাল্টে খেতে পারেন। তা হলে, তিনটি খাবারের পুষ্টিগুণই পাবে শরীর। তবে পুষ্টিবিদেরা মনে করাচ্ছেন, উপকারী হলেও তা পরিমিত খাওয়াই ভাল।