সুগারের জন্য যে আইসক্রিমকে এত দিন বাতিলের খাতায় রেখেছিলেন, সেটিই যদি হয়ে ওঠে সুগার কমানোর উপায়, তা হলে কেমন হয়? শুনতে অবাক লাগলেও, আইসক্রিম নিয়ে এক নতুন দাবি করেছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। আইসক্রিমের যতটা না দোষ, তার চেয়েও বেশি এর গুণ। গাদা গাদা চিনি দিয়ে তৈরি কড়া পাকের মিষ্টি বা চিনি দেওয়া পানীয়ের চেয়ে দুধ দিয়ে তৈরি আইসক্রিম শতগুণে ভাল। পরিমিত খেলে ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমবে বলেও দাবি করেছেন গবেষকেরা।
আইসক্রিম ভাল না খারাপ
আইসক্রিম ভাল। তবে সুগার কমানোর দাওয়াই নয়। এই কথাটা স্পষ্টই করে দিয়েছেন গবেষকেরা। তবে আইসক্রিম পরিমিত খেলে ডায়াবিটিস বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেই, এটাই তাঁদের দাবি। অন্যান্য পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের চেয়ে আইসক্রিমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেকটাই কম। ডায়াবিটিসের একেবারে সীমারেখায় দাঁড়িয়ে আছেন যাঁরা বা টাইপ ২ ডায়াবিটিসে ভুগে মিষ্টি খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন, তাঁরা বিকল্প হিসেবে আইসক্রিম খেলে উপকৃত হবেন, এমনটাই দাবি করেছেন গবেষকেরা। এর নেপথ্যে যুক্তিও দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
আইসক্রিমকে শরীরের শত্রু বলে ভেবে নেওয়া হয়েছে এর ক্রিম ও চিনির জন্য। গবেষকেরা বলছেন, শুধু ক্রিম বা চিনি নয়, ঘন দুধ দিয়ে তৈরি হয় আইসক্রিম। এতে দুধ বা দুগ্ধজাত দ্রব্যের পুষ্টিগুণও রয়েছে ষোলোআনা। আইসক্রিমে থাকা ‘ডেয়ারি ফ্যাট’ খারাপ নয়, বরং এই ধরনের ফ্যাট রক্তে অতিরিক্ত শর্করার শোষণে বাধা দেয়। আবার দুধে ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামও থাকে। এদেরও যথেষ্ট ভূমিকা আছে। ক্যালশিয়াম অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে। ম্যাগনেশিয়াম ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে, যা টাইপ ২ ডায়াবিটিস রোধে কার্যকর।
আইসক্রিমের গুণ আরও আছে। উচ্চ-শর্করাযুক্ত খাবারের তুলনায় আইসক্রিমের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক ভাবে কম। এমন অনেক আইসক্রিম আছে, যেখানে শর্করার মাত্রাও কম। ভাজাভুজি বা তেলমশলা দেওয়া খাবার, কার্বোনেটেড পানীয়ের চেয়ে যদি একটা আইসক্রিম খাওয়া যায়, তা হলে ক্ষতির চেয়ে লাভই বেশি হবে। অনেকটা সময় পেট ভর্তি থাকবে, আবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছাও কমবে। আইসক্রিম খেলে মন খুশি হবে, ‘ডোপামিন’ হরমোনের ক্ষরণ বাড়বে, যা মানসিক চাপ কমাবে। এটিও ডায়াবিটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে বলেই মত গবেষকদের।
তবে সতর্কবার্তাও আছে। আইসক্রিম প্রতি দিন বেশি পরিমাণে খেতে শুরু করলে মুশকিল। খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে। যাঁরা ডায়াবিটিসের জন্য ইনসুলিন নিচ্ছেন বা যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা প্রায়ই ওঠানামা করে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।