প্রস্টেটের সাধারণ সমস্যা আর ক্যানসার এক নয়। পুরুষদের বয়সকালে প্রস্টেটের নানা সমস্যা হয়েই থাকে। যেমন, প্রস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধি, প্রস্টেটাইটিস। এগুলি নিয়ে তেমন চিন্তার কারণ নেই। যা নিয়ে চিন্তা বেশি, তা হল প্রস্টেটের ক্যানসার। বয়স ৫০-এর কোঠা পেরোলে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে। এ দেশের পুরুষদের মধ্যে প্রস্টেট ক্যানসারের হার কম নয়। তাই উদ্বেগের যথেষ্টই কারণ আছে। এমন ক্যানসার আগে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। লক্ষণ দেখলে সাধারণ প্রস্টেটের সমস্যা বলেও ভ্রম হয় অনেক সময়ে। ক্যানসার হবে কি না, তা আগেভাগে পরীক্ষা করাতেও অনীহা অনেকের। সে ক্ষেত্রে এমন এক বিশেষ স্ক্যানিং পদ্ধতি আনছেন বিজ্ঞানীরা, যা দিয়ে সহজেই ধরা যাবে, প্রস্টেটে এমন কোনও কোষের বিভাজন হচ্ছে কি না, যা ক্যানসারের রূপ নিতে পারে।
পুরুষদের মূত্রথলির নীচে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড রয়েছে। ওই গ্ল্যান্ড থেকে হরমোন নির্গত হয়। হরমোনের গোলমাল হলে মূত্রনালিতে সমস্যা হয়। এই ক্যানসারের একটি বড় সমস্যা রয়েছে। সেটি হল এই ধরনের ক্যানসার পুরুষদের শরীরে নীরবে বাসা বেঁধে থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষণ আগে থেকে বোঝা যায় না। যখন, প্রস্রাবের সময়ে জ্বালা-যন্ত্রণা শুরু হয় বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত বার হতে শুরু করে, তখন বুঝতে হবে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে অনেকটাই। এতদূর অবধি যাওয়ার আগেই যদি ক্যানসার ধরা পড়ে যায়, তা হলে চিকিৎসা যেমন সহজ হয়, তেমনই আরোগ্য লাভের পথও। পিএসএমএ পেট স্ক্যান এমনই এক পদ্ধতি, যা বায়োপসির চেয়েও বেশি কার্যকরী বলে দাবি করছেন বিজ্ঞানীরা।
মেলবোর্নের পিটার ম্যাকালাম ক্যানসার সেন্টারের গবেষকেরা নতুন এই পরীক্ষা পদ্ধতিটি আবিষ্কার করেছেন। এটি এমন এক স্ক্যানিং পদ্ধতি, যা সিটি স্ক্যানের মতোই কাজ করবে। এতে এমন মার্কার দেওয়া আছে যার সংস্পর্শে এলে ক্যানসার কোষগুলি জ্বলজ্বল করে উঠবে। বোঝা যাবে, প্রস্টেটে বা তার আশপাশে আদৌ ক্যনসার কোষ রয়েছে কি না বা তা ছড়িয়ে পড়ছে কি না। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, সাধারণ বায়োপসিতে প্রস্টেট থেকে সামান্য কোষের নমুনা নিয়ে তা পরীক্ষা করা হয়। এই রিপোর্ট সবসময়ে সঠিক হবে, তা না-ও হতে পারে। কিন্তু পিএসএমএ পেট স্ক্যানে ভুল হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। ক্যানসার কোষের বিভাজন শুরু হওয়ার আগেই স্ক্যানে কোষগুলির উপস্থিতি ধরা পড়বে। সেগুলি ক্যানসারে পরিবর্তিত হতে পারে কি না, তা-ও বোঝা যাবে আগে থেকেই।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষকেরা পদ্ধতিটি নিয়ে গবেষণা করছেন। মানুষের শরীরেও এর ট্রায়াল শুরু হয়েছে বলে খবর। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, প্রস্টেট ক্যানসারের স্ক্রিনিং খুব বেশি প্রতিষ্ঠিত নয় এখনও। এই পদ্ধতিটি কার্যকরী প্রমাণিত হলে ক্যানসার নিরাময়ের পথ অনেক সহজ হয়ে যাবে।