গরমের ছুটির মরসুমে পাহাড়ি রাস্তায় গাড়ির ভিড়। পর্যটকেরা ধীরে ধীরে পাহাড়ি রাস্তার জ্যাম কাটিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। সবুজ পাহাড় থেকে রাস্তার বাঁকেও মেঘেরা খেলা করে যাচ্ছে। কিন্তু ঘুরতে গিয়ে এমন মনোরম পরিবেশ মন ভরে উপভোগ করতে পারলেন না এক প্রৌঢ় পর্যটক। মধ্যবয়সি এক মহিলা পর্যটকের কাণ্ড দেখে রেগে গেলেন তিনি। গাড়ি থামিয়ে সেই মহিলাকে বকাও দিলেন। আসলে, ওই মহিলা গাড়ি থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য মাঝরাস্তায় ছুড়ে ফেলেছিলেন। তা খেয়াল করেন প্রৌঢ়।
পাহাড়ে ঘুরতে এসে ওই মহিলাকে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলতে দেখে রেগে যান তিনি। অন্য গাড়িতে বসেছিলেন প্রৌঢ়। কিন্তু পাশের গাড়িতে বসে থাকা মহিলা পর্যটকের এই পদক্ষেপ মেনে নিতে পারলেন না তিনি। রাস্তা থেকে প্লাস্টিকের বর্জ্য কুড়িয়ে আবার সেই মহিলার কাছে গেলেন। প্লাস্টিকের বর্জ্যগুলি আবার মহিলার হাতেই ধরিয়ে দিলেন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় এমনই একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)।
আরও পড়ুন:
‘অনুপ_নৌটিয়াল’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে ইনস্টাগ্রামের পাতায় একটি ভিডিয়ো পোস্ট করা হয়েছে। সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে যে, এক প্রৌঢ় ব্যক্তি হাতে প্লাস্টিকের ব্যবহৃত কাপ নিয়ে গাড়ি থেকে নামছেন। প্লাস্টিক বর্জ্য হাতে সামনের গাড়ির দিকে চলে গেলেন তিনি। গাড়ির চালকের আসনে বসে থাকা এক তরুণ পুরো ঘটনার উল্লেখ করে জানান, তাঁরা উত্তরাখণ্ডের মুসৌরিতে ঘুরতে গিয়েছেন। প্রৌঢ়ের নাম অনুপ নৌটিয়াল। পেশায় সমাজকর্মী অনুপ।
তিনি বলেন, ‘‘মুসৌরি যাওয়ার পথে সামনের গাড়িতে থাকা পর্যটকেরা জানালা দিয়ে আবর্জনা বাইরে ফেলে দিয়েছিলেন। তা দেখে আমি আর চুপ করে থাকতে পারিনি। শান্ত ভাবে তাঁদের কাছে গিয়ে প্লাস্টিকের বর্জ্যগুলি ফেরত দিয়ে আসি। গাড়ির ভিতর ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সি এক মহিলা বসেছিলেন। তিনিই যে প্লাস্টিকের কাপ বাইরে ছুড়ে ফেলেছিলেন, তা স্বীকার করলেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ না করার জন্য ওই মহিলাকে অনুরোধ করেছি।’’ অনুপ আরও বলেন, ‘‘শুধু পর্যটনকেন্দ্রই নয়। আমরা সকলে শিক্ষিত। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা থেকে আমাদের বিরত থাকা প্রয়োজন। এই আচরণ একেবারেই সঠিক নয়।’’
আরও পড়ুন:
ভিডিয়োটি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে নেটপাড়ার অনেকেই সেই প্রৌঢ়কে সমর্থন করেছেন। এই প্রসঙ্গে এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘পর্যটকদের মধ্যে নাগরিক সচেতনতার অভাব রয়েছে। বার বার সতর্ক করা হয়েছে যে, পাহাড়ি এলাকা ও পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে যত্রতত্র আবর্জনা ফেললে দূষণ ছড়ায়। তা বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করে এবং পর্যটনের উপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবুও লোকজনের কোনও হেলদোল নেই।’’