সন্ধ্যায় চা বা কফির সঙ্গে মুচমুচে করে ভাজা চিকেন নাগেটস বা সসেজ খাওয়ার অভ্যাস এখন আম বাঙালিরও। কারণ, অনলাইন কিছু ই-কমার্স সাইটের দৌলতে এ সব খাবার এখন সহজলভ্য। চাইলেই বাড়ি বয়ে এসে দিয়ে যাবে। অনেকেরই ধারণা, এক-আধ দিন সসেজ বা বার্গার খেলে কী আর হবে! টিভি দেখতে দেখতে চিপ্সের সঙ্গে নরম পানীয় না হলে কি আর চলে! মনের সুখ বা স্বাদের তৃপ্তি যতই হোক, শরীর কিন্তু বাধ সাধবে। সসেজ, বেকন, হটডগ বা চিপস, বার্গারের মতো প্রক্রিয়াজাত বা আলট্রা-প্রসেসড খাবার খেলে কেবল ওজন বাড়বে বা রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল জমবে, তা কিন্তু নয়। এ সব খাবারের বড়সড় প্রভাব পড়বে মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রেও। এমনটাই দাবি করেছেন গবেষকেরা।
গবেষণায় কী দেখা গেল?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দেখিয়েছেন, রোজের ক্যালোরির ২০ শতাংশের বেশি যাঁরা প্রক্রিয়াজাত বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে গ্রহণ করেন, তাঁদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি।
কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি, প্যাকেটজাত চিনিযুক্ত পানীয় মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাসের ক্ষতি করে বেশি। ওই অংশটিই হল মগজের স্মৃতির কুঠুরি। কাজেই, সেটির ক্ষতি হলে স্মৃতির পাতা সময়ের আগেই ঝাপসা হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন:
অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা হাজার দুয়েকের বেশি মধ্যবয়স্ক ব্যক্তিকে নিয়ে একটি সমীক্ষা চালান। তাঁরা দেখেন, যাঁরা প্রায় রোজই কোনও না কোনও প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফ্রোজ়েন মাংস খান, তাঁদের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বাকিদের থেকে বেশি।
মস্তিষ্কের কী ক্ষতি করে প্রক্রিয়াজাত খাবার?
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে চিনি, ট্রান্স-ফ্যাট ও নুনের মাত্রা বেশি। এগুলি দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে মিশলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে সাইটোকাইনের আধিক্য ঘটে। সাইটোকাইনের জন্য সারা শরীরে প্রদাহ তৈরি হয়, যার রেশ ছড়ায় মস্তিষ্কেও। ক্ষতি হয় স্নায়ুর।
স্বাদের জন্য চিপ্স ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট মেশানো থাকে যা এক ধরনের রাসায়নিক। এটি স্নায়ুর কোষকে অধিক উত্তেজিত করে দেয়। ফলে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় ঘটতে থাকে, যা পরবর্তীতে স্মৃতিনাশ, অ্যালঝাইমার্সের মতো রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ডায়েট সোডা বা চিনিমুক্ত পানীয়ে থাকে অ্যাসপারটেম নামে কৃত্রিম শর্করা, যা ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের কারণও হয়ে ওঠে। দীর্ঘ সময় ধরে এটি রক্তে মিশলে স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে, যা স্মৃতিভ্রমের কারণও হয়ে উঠতে পারে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস দীর্ঘ দিন সংরক্ষণের জন্য তাতে নাইট্রাইট ও নাইট্রেট মেশানো হয়, যা রক্তনালির ক্ষতি করে ও মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়।
গবেষকেরা বলছেন, নরম পানীয়, প্যাকেটবন্দি ফলের রস, লস্যিও সমান ক্ষতিকর। প্যাকেটজাত জুস বা নরম পানীয়ে প্রিজ়ারভেটিভ ছাড়াও মেশানো হয় কৃত্রিম রং এবং ফ্লেভার। বাজারচলতি জুসের প্যাকেটে যে সব রাসায়নিক থাকে, তা মস্তিষ্কের সচলতা কমিয়ে দেয়। বিভিন্ন রকম স্নায়ুর রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে তোলে।