অনেক পুরুষের কাছেই ফিটনেসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল, সিক্স-প্যাক্, স্পষ্ট অ্যাব্। তাই কঠোর ডায়েট আর নিয়মিত প্রবল শরীরচর্চার মাধ্যমে এমন চেহারা পাওয়ার জন্য ছুটতে থাকেন তাঁরা। কিন্তু বাস্তবে সেই পথ কতটা কঠিন, কতটা অস্বস্তিকর এবং শরীর ও মনের উপর তার প্রভাব কী হতে পারে, তা খুব কম মানুষই প্রকাশ্যে বলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন বলিউড অভিনেতা প্রতীক গান্ধী। যদিও ‘মদগাঁও এক্সপ্রেস’-এর নায়ক বিশেষ চরিত্রের প্রয়োজনেই সিক্স-প্যাকের জন্য কসরত করেছেন।
অল্প সময়ের মধ্যে শরীরের মেদ কমিয়ে পেটের পেশি স্পষ্ট করতে হয়েছিল প্রতীককে। অভিনেতার কথাতেই জানা যায়, সেই সময়ে তাঁর খাদ্যাভ্যাস ছিল অত্যন্ত কঠোর। সবচেয়ে আগে তিনি খাবার থেকে সম্পূর্ণ ভাবে কার্বোহাইড্রেট ও নুন বাদ দেন। শুটিং শুরুর কয়েক দিন আগে তিনি ইচ্ছে করেই জল খাওয়া অনেক কমিয়ে দিয়েছিলেন। প্রতি দিন মাত্র এক লিটার জল খাচ্ছিলেন। যাতে পেশিগুলি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অল্প সময়ের মধ্যে শরীরের মেদ কমিয়ে পেটের পেশি স্পষ্ট করেছিলেন প্রতীক। ছবি: সংগৃহীত।
প্রতীক প্রোটিন নির্ভর খাবার খেয়ে, প্রবল শরীরচর্চা করে সুঠাম দেহ অর্জন করেছিলেন। কিন্তু তাঁর ঘুমের চাহিদা মিটছিল না। তাঁর কথায়, ‘‘প্রচুর প্রোটিন খেয়েছি। প্রবল ব্যায়াম করেছি। কিন্তু ঘুমের সময় পাইনি। তার উপর বেশ অল্প জল খাওয়া হচ্ছিল। ফলে সারা শরীরে টান ধরছিল ভীষণ। সারা দিনে এক লিটার জল, তা-ও আবার চা-কফি মিলিয়ে। আর কার্বোহাইড্রেট বাদ দিলে মেজাজ বিগড়ে থাকবেই। খালি অপেক্ষা করছিলাম, কবে শুটিং শেষ হবে।’’
আরও পড়ুন:
বাইরে থেকে শরীর ছিপছিপে দেখালেও ভিতরে ভিতরে অস্বস্তি বাড়ছিল। শর্করা বাদ দেওয়ার ফলে শরীর দ্রুত ওজন হারায়, কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে শক্তিও কমতে থাকে। শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হলেও ভিতরে ক্লান্তি জমতে শুরু করে। তবুও সুঠাম চেহারা পাওয়ার লক্ষ্যে সেই অবস্থার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হয় প্রতীককে। এই সময়ে শরীরে টান ধরত, দুর্বল লাগত এবং কোনও কাজে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। জল কম খাওয়ার ফলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছিল, কিন্তু ক্যামেরার সামনে নির্দিষ্ট চেহারা বজায় রাখার জন্য সেই কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছিল। ফলে তিনি মানসিক ভাবেই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন। প্রতীক নিজেই স্বীকার করেছেন, মেজাজ খারাপ হয়ে থাকত অধিকাংশ সময়ে। ছোটখাটো বিষয়ে রেগে যাওয়া, বিরক্ত লাগা, অকারণে অস্থির হয়ে পড়া— সব মিলিয়ে মানসিক চাপ অনেক বেড়ে গিয়েছিল। ফলে শরীরের পাশাপাশি মন ভাল রাখতেও সুষম আহার একান্ত প্রয়োজন।