সুস্থ শরীরে দীর্ঘ দিন বাঁচার ইচ্ছে অধিকাংশেরই। এই দুই লক্ষ্য নিয়েই কত রকমের নিয়মকানুনের আবিষ্কার সারা বিশ্ব জুড়ে! কিন্তু অভিনেতা রাজপাল যাদব বলছেন, এর উত্তর এত জটিল নয়। বরং খুব সহজ একটি অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। নিজে সেই নিয়মই মেনে চলেন তিনি। আর তা হল, কম খাওয়া।
রাজপালের বক্তব্য, “যত কম খাবেন, তত বেশি দিন বাঁচবেন এবং তত বেশি সুস্থ থাকবেন।” শুধু তা-ই নয়, তাঁর মতে সুস্থ জীবনের মূলমন্ত্র তিনটি— খাওয়া কমানো, জল বেশি খাওয়া এবং পরিশ্রম বাড়ানো। নির্দিষ্ট করে বললে, তাঁর মতে, অর্ধেক পরিমাণ খাবার খাওয়া, দ্বিগুণ পরিমাণ জল পান করা এবং তিন গুণ বেশি পরিমাণে পরিশ্রম করাই দীর্ঘায়ু পাওয়ার রাস্তা।
চিকিৎসকেরা বলছেন, এর মধ্যে কিছু বৈজ্ঞানিক ভিত্তি রয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার ওঠানামা বাড়ে, হজমপ্রক্রিয়ায় চাপ পড়ে এবং ঘুমের উপরও প্রভাব ফেলে। অন্য দিকে, পরিমিত খাবার খাওয়া শরীরে ভারসাম্য বজায় রাখে। কম পরিমাণে খাওয়া, সুষম আহার এবং মধ্যরাতে অস্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়া— এতেই রক্তে গ্লুকোজ়ের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দ বজায় থাকে, বদহজম কম হয়।
এখানেই আসে ‘পোর্শন কন্ট্রোল’ বা খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের ধারণা। কম খাওয়া মানে না খেয়ে থাকা নয়। বরং যতটা প্রয়োজন, ততটাই খাওয়া। এতে শরীর সঠিক ভাবে শক্তির ব্যবহার করতে পারে।
খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় কী?
· ধীরে ধীরে খাওয়া, যাতে শরীর বুঝতে পারে কখন পেট ভরে গিয়েছে
· খাওয়ার সময় অন্য দিকে মন না দেওয়া, যেমন ফোন বা টিভি
· প্রথমে কম পরিমাণে পরিবেশন করা নিজেকে, পরে প্রয়োজনে আবার খাবার নেওয়া
· খাবার খাওয়ার আগে জল খাওয়া, যাতে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে
· খাওয়ার সময়ে ফাইবারযুক্ত সব্জি বেশি খেতে হবে, যাতে দীর্ঘ ক্ষণ পেট ভরা থাকে
এই পুরো ধারণার আর একটি দিকও গুরুত্বপূর্ণ, আর তা হল, ‘মাইন্ডফুল ইটিং’। অর্থাৎ, কী খাচ্ছেন তা নয়, কী ভাবে খাচ্ছেন সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবেই খাবার ভাল করে হজম হবে, পুষ্টি উপাদানগুলি শোষিত হবে শরীরে। নয়তো খাবার খাওয়ার এই কাজটি সুস্বাস্থ্যের কোনও কাজেই লাগবে না।