‘নাকে তেল দিয়ে ঘুমোন!’ আক্ষরিক হোক বা আলঙ্কারিক, দু’টিতেই ভাল, পর্যাপ্ত, প্রশান্তির ঘুমের প্রসঙ্গ রয়েছে। কিন্তু নাকে ঘি দিয়ে ভাল ঘুমোনোর কথা শুনেছেন কখনও? রান্না থেকে ত্বকচর্চা, সবেতেই যেখানে তেলের জায়গা নিচ্ছে ঘি, এ ক্ষেত্রেও একই ধারা শুরু হতে পারে। এমনই ধারণা মিলল কৌতুকাভিনেত্রী ভারতী সিংহের স্বামী এবং পেশায় প্রযোজক হর্ষ লিম্বাচিয়ার ইউটিউব ভ্লগ থেকে।
রাতে ঘুম আসছে না, বার বার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে? সম্প্রতি নিজেদের ইউটিউব ভিডিয়োয় অদ্ভুত অথচ প্রচলিত ঘরোয়া এক পদ্ধতির কথা বললেন এবং প্রয়োগ করেও দেখালেন হর্ষ লিম্বাচিয়া। নাসাপথে ঘি ঢেলে দেওয়া। তিনি জানিয়েছেন, ঘুমের আগে বা ঘুম না এলে নাকে দু’ফোঁটা ঘি দিলে ভাল ঘুম আসতে পারে। এ কি আদৌ স্বাস্থ্যকর, না কি শরীরের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে?
নাসাপথে ঘি ঢাললে কী হবে? ছবি: সংগৃহীত
এই ধারণা নতুন নয়। প্রাচীন পদ্ধতি মেনে নাসাপথে তেল বা ঘি ব্যবহার করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য, নাসাপথের আর্দ্রতা বৃদ্ধি করা, যাতে নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসে কোনও অসুবিধা না হয়। ফলে এই পদ্ধতিতে নাকের ভিতর আর্দ্রতা বজায় থাকে, শুষ্কতা কমে এবং শ্বাস নেওয়া সহজ হয়। এতে মাথা ও স্নায়ুর উত্তেজনাও প্রশমিত হতে পারে। যার ফলে ঘুমের গুণমান উন্নত করতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। নাকে ঘি দিলে নাকের ভিতরের অংশে একটি সুরক্ষার স্তর তৈরি হয়, যা ধুলো বা অ্যালার্জেনের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। একই সঙ্গে এটি নাসাপথকে মসৃণ রাখে, ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়।
কিন্তু ঘিয়ের মতো উপাদান ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। কারণ, উপকারের পাশাপাশি এর থেকে বিপদের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত ঘি ঢেলে দিলে বা সঠিক নিয়ম মেনে না করলে শ্বাসনালিতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। তাই সব ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি কার্যকর, এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুব সীমিত। বিশেষ করে যাঁদের সর্দি, অ্যালার্জি বা নাক বন্ধের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এটি উল্টে অস্বস্তি বাড়াতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ধরনের ঘরোয়া পদ্ধতি প্রয়োগ করার আগে নিজের শরীরের অবস্থা বোঝা জরুরি। কারণ, সবার জন্য একই উপায় সমান ভাবে কাজ করে না।
ঘুম আনার জন্য নাসাপথে যা খুশি না ঢেলে যাপনে বদল আনলেই চলে। ঘুমের আগে ফোন-ল্যাপটপ না দেখে, ঘর অন্ধকার করে রাখতে পারেন। তাতে দ্রুত ঘুম নেমে আসতে পারে চোখে। নাক বন্ধ বা শুষ্ক থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে।