বক্সঅফিসে সাড়া জাগানো সাফল্য পেয়েছে ‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’। এই ছবির প্রথম ও দ্বিতীয় দুই পর্বেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন রণবীর সিংহ। প্রথম পর্বের ছবিতে গুপ্তচর হামজ়া আলির চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। তবে এ বার বড় পর্দায় হামজ়া আলি মাজ়ারির পাশাপাশি জসকিরাত সিংহ রাঙ্গির চরিত্রেও নজর কেড়েছেন রণবীর। এই ছবির জন্য বহু বার রণবীরকে শরীর নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়েছে। চরিত্রের প্রয়োজনে কখনও ওজন বাড়াতে হয়েছে, কখনও আবার ওজন কমাতে হয়েছে।
‘ধুরন্ধর দ্য রিভেঞ্জ’ ছবিতে রিজ়ওয়ান নামে এক গুপ্তচরের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রণবীর সিংহের ফিটনেস প্রশিক্ষক মুস্তফা আহমেদ। ছবিতে রণবীরের ভোলবদল সম্পর্কে মুস্তফা বলেন, ‘‘হামজ়া চরিত্রটির মধ্যে একটা পাশবিক ব্যাপার আছে, আর সেটা বাস্তবে ফুটিয়ে তোলার জন্য রণবীরকে প্রায় ১০ কেজি ওজন বাড়াতে হয়েছে। আদিত্য স্যার (ছবির পরিচালক) আমায় বলেছিলেন রণবীরের ওজন ১০ কেজি বাড়াতে হবে আর আমরা ছ’ সপ্তাহের মধ্যে ছবির শুটিং শুরু করব।’’
আরও পড়ুন:
সেই সময় রণবীরের ওজন ছিল ৭৬-৭৭ কেজি। আর ছবির শুরু করার সময়ে তাঁর ওজন বেড়ে হয়েছিল প্রায় ৮৭-৮৮ কেজি। মুস্তফা বলেন, ‘‘রণবীরকে কিছু বললেই হল, ও পুরো মেশিনের মতো দৌড়োতে শুরু করবে। আগে রণবীরের ডায়েটে থাকত মোট ৩০০০-৩৬০০ ক্যালোরির খাবার। চরিত্রের জন্য রণবীর ৩৬০০-৪০০০ ক্যালোরির খাবার খেতে শুরু করেন। তার মধ্যে ৬০০-৭০০ ক্যালোরি প্রোটিনের জন্য বরাদ্দ রাখতেন। সারা দিনে ২৪০ গ্রাম প্রোটিন খেতেন। মূলত মুরগি আর পাঁঠার মাংসই বেশি করে খেতেন।’’ শুধু খাওয়াদাওয়া নয়, এর পাশাপাশি শরীরচর্চার জন্যও ভীষণ পরিশ্রম করেছেন রণবীর। দুপুরে খাওয়ার জন্য যে সময়টা পেতেন, তখনও তিনি ওয়েট ট্রেনিং করতেন।
মুস্তফার মতে, রণবীর ভীষণ বুদ্ধিমান। কী ভাবে আবার চেহারা ফিরে পেতে হয়, সেটা অভিনেতা খুব ভাল জানেন। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে ছবির শুটিং চলত। তার বাইরেও প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে মুস্তফার সঙ্গে অ্যাকশন দৃশ্যের মহড়া করতেন রণবীর। সব মিলিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করতে হত রণবীরকে।