পেনের মতো দেখতে ইনজেকশন। পেট, কোমর বা ঊরুতে ফোটাতে হয়। ইনসুলিন এত দিন এ ভাবেই নিয়ে এসেছেন সুগারের রোগীরা। ইনজেকশন ফোটানোর সময়ে ভুলভ্রান্তিও বিস্তর হয়। এ সবের ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে ‘ওরাল ইনসুলিন’-এর ধারণা আসে। তা তৈরিও হয়। এ দেশে এমন ইনসুলিন নিয়ে এসেছে ওষুধ নির্মাতা সংস্থা সিপলা। তবে তা ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলের মতো নয়, ইনহেলারের মতো, যা মুখ দিয়ে টানতে হয়। ট্যাবলেট ইনসুলিন তৈরির করার ব্যাপারে নানা সমস্যা ছিল এত দিন। এমন ইনসুলিন শরীরে গিয়েও ঠিকমতো কাজ করত না। তবে জাপানি বিজ্ঞানীরা এই সমস্যার সমাধান করে ফেলেছেন। বিশ্বে প্রথম বার ট্যাবলেটের আকারে ইনসুলিন নিয়ে আসছেন তাঁরা।
ইনসুলিন ট্যাবলেট তৈরিতে বাধা ছিল কোথায়?
অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষ থেকে তৈরি ইনসুলিন হরমোনই যত নষ্টের গোড়া। এই হরমোনের ক্ষরণ কম হলে বা বিটা কোষই নষ্ট হতে থাকলে গোলমাল বাধে শরীরে। ইনসুলিনের অভাবে খাবার থেকে আসা গ্লুকোজ় আর জারিত হতে পারে না। দলা দলা হয়ে জমতে থাকে রক্তে। তখনই রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। টাইপ ১ ডায়াবিটিসে ইনসুলিনের জন্মদাতা বিটা কোষগুলি নষ্ট হতে থাকে। তখন বাইরে থেকে ইনসুলিন ইনজেকশন নিয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়। তরল ইনসুলিন ইনজেকশনের মাধ্যমে রক্তে মিশে গিয়ে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু ইনসুলিন ট্যাবলেট খেলে তার কার্যকারিতা খাদ্যনালি থেকে অন্ত্রে পৌঁছোনোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই ট্যাবলেটের আকারে এটিকে নিয়ে আসা যায়নি এত দিন।
আরও পড়ুন:
জাপানোর কুয়োমোতো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা ‘ডিএনপি পেপটাইড’ নামে এক উপাদান তৈরি করেছেন, এ ক্ষেত্রে যা বাহক হিসেবে কাজ করবে। ইনসুলিন ট্যাবলেটের সঙ্গে এটিকে জুড়ে দিলে তা ওষুধটিকে খাদ্যনালি থেকে পরিপাকতন্ত্র হয়ে অন্ত্র অবধি পৌঁছে দেবে নিরাপদে। তা-ও আবার অক্ষত অবস্থায়। ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে এর কার্যকারিতাও যাচাই করে নিয়েছেন তাঁরা। গবেষকেরা জানিয়েছেন, ডায়াবেটিক ইঁদুরকে দিনে এক বার মাত্র ইনসুলিন ট্যাবলেট খাইয়ে দেখা গিয়েছে, টানা তিন দিন অবধি রক্তে সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এ দেশে লাভ কী হবে?
২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতে প্রায় ১০ কোটি মানুষ ডায়াবিটিসে আক্রান্ত। এর মধ্যে প্রায় ৯ লাখ শিশু ও কিশোর টাইপ-১ ডায়াবেটিসে ভুগছে, যাদের দিনে ৪-৫ বার ইনসুলিন ইনজেকশন নিতে হয়। যদি ট্যাবলেট ইনসুলিন বাজারে এসে যায়, তা হলে বার বার সুচ ফোটানোর প্রয়োজন হবে না। দিনে এক বার ওষুধ খেলেই হবে।
তবে গবেষণাটি আপাতত ইঁদুর ও অন্য পশুদের উপর করা হচ্ছে। মানুষের শরীরে তা কতটা কার্যকরী হবে, তা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।