নব্বইয়ের দশকের বিগ হিট ছিল ‘রোজা’। ছবিতে ‘রোজা’-র ভূমিকায় অভিনয় করে মধু দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলেন। এই ছবি যখন মুক্তি পেয়েছিল, তিনি ছিলেন ২২ বছরের তরুণী। প্রাণবন্ত, মিষ্টি একটি মেয়ে। গত কয়েক বছরে তামিল, মালয়ালম, তেলুগু, হিন্দি ছবিতে সমানতালে অভিনয় করেছেন এই দক্ষিণী অভিনেত্রী। এখনও করে চলেছেন। তবে অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি বেড়েছে তাঁর বয়সও। মধু এখন ৫৭। এমন বয়সে সুস্থ থাকতে কী করেন তিনি?
অভিনেত্রী জানিয়েছেন তাঁর ছোটবেলাটা ছিল আর পাঁচ জনের মতোই। দিনভর দৌড়ঝাঁপ করতেন, পড়াশোনার পাশাপাশি চলত নৃত্যপ্রশিক্ষণ। আর মায়ের হাতের রান্না খেতেন। রুটি, আলুভাজা—সব কিছুই থাকত তাঁর খাদ্যতালিকায়। ছোট থেকেই খেতে ভালবাসেন তিনি। দিনভর নানা কাজের মধ্যে থাকার ফলে আলাদা ভাবে ডায়েটের কথা ভাবার প্রয়োজনও পড়েনি।
তবে বছর খানেক আগে থেকে তাঁর জীবনে বদল এসেছে। ধীরে ধীরে তিনি বুঝেছেন, সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টির ভূমিকা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী জানান, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন রকমের খাবার খেতে যান। নানা রকম রেস্তরাঁয় গিয়ে দেশি-বিদেশি খাবার খেতেও ভালবাসেন। আর তাতেই তাঁর উপলব্ধি, খাবার শুধু পেট ভরানো বা স্বাদের রসদ নয়, বরং তা একটা অভিজ্ঞতা। তবে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ জরুরি সে কথাও বুঝেছেন অভিনেত্রী। মধুর কথায়, ‘‘এখন আমি বুঝেছি, দিনভর কেউ কতটা দৌড়ঝাঁপ করছে, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কোন, খাবার কতটা খাচ্ছে।’’ তাঁর উপলব্ধি, ‘‘অল্পই যথেষ্ট’’।
৫৭-তে পৌঁছে অভিনেত্রীর এমন ভাবনা কতটা সঠিক সুস্বাস্থ্য রাখার জন্য? পুষ্টিবিদ গরিমা গয়ালের কথায়, ‘‘বয়সের সঙ্গে খাদ্যতালিকা, পরিমাণে বদল জরুরি। ছোটবেলায় খেলাধুলো, শরীরচর্চা, দৌড়ঝাঁপ সবটাই বেশি হয়। ফলে যে কোনও খাবার খেলেও সেই ক্যালোরি খরচ হয়ে যায়। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কায়িক শ্রম কমে, কমে যায় বিপাক হারও। সেই কারণে সঠিক ডায়েট জরুরি হয়ে ওঠে।’’
পরিমিতি নিয়ে অত্যন্ত সচেতন অভিনেত্রী। সেই কথায় সায় দিচ্ছেন পুষ্টিবিদও। কারণ, অভিনেত্রী ভোজনরসিক। ইটালিয়ান, চাইনিজ়, উপমহাদেশীয়— নানা ধরনের খাবার খান, রেস্তরাঁয় যান। তাই খাবারের পরিমাণে রাশ টানতে না পারলে সে খাবার স্বাস্থ্যকর হলেও ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে জীবনযাপনে বদল আসে, মেটাবলিক রেট বা বিপাকহারও হ্রাস পায়। তখন আর কম বয়সের মতো শরীরচর্চা করার জোরও সব সময়ে থাকে না। তাই ফিট থাকতে সঠিক খাবার বেছে নেওয়া দরকার হয়। পুষ্টিবিদ বলছেন, সঠিক খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি এই বয়সে এসেও শরীরচর্চা জরুরি। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ মুক্ত থাকাও সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।