ওজন কমানোর জন্য কায়িক শ্রম যতটা গুরুত্বপূর্ণ, মানসিক পরিশ্রমও ততটাই জরুরি। মনের ভিতরের লড়াইটা সম্ভবত গায়ে-গতরে খাটার থেকেও বেশি কঠিন। ফিটনেস যাত্রার জন্য মনকে প্রস্তুত করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। সম্প্রতি এই বাস্তব অভিজ্ঞতার কথাই খোলাখুলি ভাগ করে নিয়েছেন রুবিনা দিলায়ক।
রোগা হওয়ার জন্য কী কী দরকার? ছবি: সংগৃহীত
টেলিঅভিনেত্রী জানিয়েছেন, তাঁর ওজন কমানোর যাত্রা একেবারেই সহজ ছিল না। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ‘স্ট্রেস ইটিং’, অর্থাৎ চাপ বা মানসিক অস্থিরতার সময়ে বেশি খেয়ে ফেলা। এমনও সময় গিয়েছে, যখন খিদের চোটে রাতে ঘুমই আসত না। এই অভিজ্ঞতা অনেকের চেনা। শরীরের খিদে আর মনের খিদে একসঙ্গে মিশে গেলে নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। কখনও কখনও তিনি রাতের খাবার বাদ দিয়ে দিতেন। ভাবতেন, না খেলে বোধহয় দ্রুত ওজন কমবে। কিন্তু তাতে ঘুমের দফারফা হত বরং। অল্প জাঙ্ক ফুড খেয়ে ফেললেও অবসাদ ও অপরাধবোধে ভুগতেন।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা সহজ ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বুঝেছেন, শুধু খাওয়া কমালেই হবে না। মানসিক চাপ সামলানোও সমান জরুরি। কারণ যত ক্ষণ না মনের দিকটা সামলানো যাচ্ছে, তত ক্ষণ পর্যন্ত বার বার একই জায়গায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তিনি নিজের রুটিনে কিছু পরিবর্তন আনেন। খাবারের সঙ্গে সম্পর্কটা নতুন করে তৈরি করার চেষ্টা করেন। সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ খাবার খান তিনি। খিদে পেলে নিজেকে প্রশ্ন করেন, কেন খেতে ইচ্ছে করছে। জাঙ্ক ফুড ধীরে ধীরে কমিয়ে বাড়ির হালকা খাবার খাওয়া শুরু করেন রুবিনা। নয়তো প্রক্রিয়াজাত ও তৈলাক্ত খাবার খেয়ে শরীর একেবারে ভেঙে পড়ত তাঁর। এই সচেতনতাই ধীরে ধীরে তাঁকে সাহায্য করেছে এই লক্ষ্য ভেদ করতে।
অনেক সময়ে বিরক্তি, একঘেয়েমি বা দুশ্চিন্তার জালে পড়ে গিয়েও খেয়ে ফেলেন অনেকে। আর তখন শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খাবার চলে যায়। এই অভিজ্ঞতা থেকে একটি স্পষ্ট বার্তা মেলে রুবিনার। নিজেকে দোষারোপ না করে, নিজের অভ্যাসগুলিকে বুঝে নেওয়া বেশি জরুরি। শরীরের সঙ্কেত শুনতে শেখা, আর মনের চাপ কমানোর উপায় খুঁজে নেওয়াই আসল পরিবর্তন আনে। ওজন কমানোর যাত্রায় তাই কোনও শর্টকাট নেই। ধীরে ধীরে, নিজের গতিতে, নিজের শরীর আর মনের সঙ্গে বোঝাপড়া করেই এগোতে হয়।