অনেকের জীবনেই ঘুম ভাঙা থেকে শুরু হয় মানসিক চাপ। বিছানায় গা এলিয়ে দিতে গভীর রাত হয়ে যায়। বিশ্রাম নেই। ঘুম হয় না ঠিকমতো। মাথায় হাজার চিন্তা। সংসার, সন্তান, অফিস, পরিবার— সকলের ভাল-মন্দের খোঁজ রাখতে গিয়ে কি নিজেই এই ভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছেন? সময় এসেছে নিজের যত্ন নেওয়ার।
আরও পড়ুন:
জীবনে খুশি ফেরাতে হলে মনোবিদেরা বলছেন, নিজের যত্ন নেওয়া জরুরি। নিজেকে ভাল রাখতে না পারলে, অন্যদের ভাল রাখাও কঠিন হবে। তা ছাড়া, খাওয়া, ঘুম ঠিকমতো না হলে, শরীর যেমন ভেঙে পড়বে তেমনই মানসিক স্বাস্থ্য অবহেলিত হলে, হারিয়ে যাবে খুশি। কী ভাবে নিজের যত্ন নেবেন?
শারীরিক যত্ন: কাজের চাপ সামাল দিতে হলে সু্স্থ থাকা দরকার। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরে বদল আসে। সঠিক খাওয়া, ঘুমের অভাব হলে নানা রোগ বাসা বাঁধতে পারে। হরমোনের ওঠা-পড়াও হতে পারে। তাই শরীর সুস্থ রাখা দরকার। তার প্রাথমিক শর্ত হল স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, সময়ে খাওয়া এবং শরীরচর্চা করা। আর এক জরুরি শর্ত, ক্লান্ত লাগলে, অসুস্থ বোধ হলে একেবারেই তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। শরীর ঠিক থাকলে, কাজ-সংসার সব সামলানো যাবে।
মনের খেয়াল: শরীরের মতো মনেরও বিশ্রাম দরকার। শরীরের মতো মনও খারাপ হতে পারে। যদি সেই মন খারাপ দীর্ঘস্থায়ী হয়, শরীরেও প্রভাব ফেলে, তবে মনোবিদ বা মনোরোগ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
মন ভাল রাখার প্রাথমিক শর্তই হল নিজেকে সময় দেওয়া। নিজের ভাললাগা, শখগুলিকে প্রশ্রয় দেওয়া। সিনেমা দেখা, বাইরে খাওয়া, ঘোরা, পছন্দের বই পড়া, আড্ডা— যাঁর যেটি ভাল লাগে, সপ্তাহশেষে একটি দিন বরাদ্দ করতে পারেন সেই কাজেই। মানসিক চাপ বেশি থাকলে, মেজাজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে প্রাণায়াম অভ্যাস করতে পারেন। মাসখানেক পর ধীরে ধীরে মন সংযত হবে। তবে যদি এতে কাজ না হয়, চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।
সামাজিক সংযোগ জরুরি: ভাল থাকতে চাইলে কাছের মানুষের সঙ্গে জুড়ে থাকাও জরুরি। ভাল বন্ধু, আত্মীয়-পরিজন— যাঁদের সঙ্গে কথা বলতে ভাল লাগে, মন হালকা হয়, তাঁদের সঙ্গে সংযোগ রাখাটাও জরুরি। ফোন বা সমাজমাধ্যম যথেষ্ট নয়, মাঝেমধ্যে দেখা-সাক্ষাৎ করাও জরুরি। পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া, বন্ধুরা মিলে হইহই করা, ঘোরা, খেতে যাওয়ার মধ্যেও নিজেকে ভাল রাখার রসদ মেলে।
আবেগকে গুরত্ব দেওয়া: কখনও মন বিষণ্ণ হয়ে থাকে, কখনও কোনও কিছুই ভাল লাগে না। কারও আবার কথায় কথায় রাগ হয়ে যায়। চেঁচিয়ে ফেলেন। রাগ, দুঃখ, ভালবাসা, উদ্বেগ— এই অনুভূতিগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখাও নিজের ভাল থাকার জন্য জরুরি। কখনও অসুস্থতার জন্য, কখনও অত্যধিক কাজের চাপে, কখনও হরমোনের ভারসাম্যের অভাবে আবেগ-অনুভূতি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কষ্টের কথা বিশ্বাসযোগ্য কাউকে বলা যেতে পারে। কাউন্সেলিং বা থেরাপিরও প্রয়োজন হতে পারে।
পেশাগত বিষয়: পেশার চাপ অনেক সময়ে জীবনে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কাজের চাপ এবং লক্ষ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। কারও আবার পেশাগত পরিবেশও অসহ্য লাগে বলে মনে চাপ বাড়ে। সে ক্ষেত্রে নতুন কোনও কাজের খোঁজ পেলে যদি লাভ হয়, সেই চেষ্টা করা যেতে পারে। পেশাগত ক্ষেত্রে উন্নতি মানে দিনের সিংহভাগ সেখানে দিয়ে দেওয়া নয়। বরং কাজ এবং ব্যক্তিজীবনে সীমারেখা থাকা প্রয়োজন।