রাতে শুয়ে ঘুম আসে না। তার উপরে নাক ডাকার সমস্যাও প্রবল। ঘুমের মাঝে দমবন্ধ হয়ে আসতেও চায়। এমন সমস্যা এখন বয়স্কদের নয়, সবচেয়ে বেশি কমবয়সিদের। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় এমনই জানা গিয়েছে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, এ দেশে ১০ কোটির বেশি মানুষ ঘুমের সমস্যায় জর্জরিত। কারও রয়েছে অনিদ্রা রোগ, কেউ আবার ভুগছেন স্লিপ অ্যাপনিয়ায়। এই তালিকায় কমবয়সিদের সংখ্যাই বেশি। বয়স কম ও কর্মক্ষম, এমন লোকজনই ঘুমের রোগে আক্রান্ত।
স্লিপ অ্যাপনিয়া শুধু ঘুমের মধ্যে নাক ডাকার সমস্যা নয়। এর জটিলতা আরও বেশি। ঘুমের সময়ে শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ঘুমের মধ্যেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কারও দম আটকে আসে, কারও একটানা কাশিও শুরু হয়। ফলে সকালে উঠে মাথার যন্ত্রণা, দিনের বেলা ঘুম পাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। সময় মতো চিকিৎসা না করালে এর ফলে হার্টের সমস্যা, হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আইসিএমআর জানাচ্ছে, স্লিপ অ্যাপনিয়ার নানা ধরন আছে। মূলত তিন রকম সমস্যা বেশি হয়— ১) অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া, যাতে গলার পেশি শিথিল হয়ে বায়ুপথ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তীব্র নাক ডাকার সমস্যা দেখা দেয়। ২) সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়ায় মস্তিষ্ক শ্বাস নিয়ন্ত্রক পেশিগুলিকে সঠিক সংকেত পাঠাতে পারে না, ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়। ৩) কমপ্লেক্স স্লিপ অ্যাপনিয়ায় দুই সমস্যাই পর্যায়ক্রমে চলতে থাকে।
আরও পড়ুন:
কমবয়সিদের এই রোগ হওয়ার অন্যতম কারণ হল স্থূলত্ব। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ঘুমের সমস্যা যেমন হয়, তেমনই শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত রোগও দেখা দেয়। আরও একটি কারণ হল রাত জেগে ঘনঘন সিগারেট বা কফি-চা খাওয়ার অভ্যাস। সিগারেট ও কফি বা ক্যাফিন জাতীয় জিনিস ঘুম না আসার অন্যতম কারণ। বেশি রাতে জাঙ্ক ফুড খাওয়ার অভ্যাসও স্লিপ অ্যাপনিয়ার কারণ হয়ে উঠছে দিন দিন।
রাতে শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল দেখা, কানে হেডফোন দিয়ে গান শোনাও এর আরও একটি কারণ হতে পারে। এতে স্নায়ুর উদ্দীপনা বাড়ে। ফলে অনিদ্রার সমস্যাও বাড়তে থাকে। নাইট শিফটে যাঁরা চাকরি করেন, তাঁরাও ভুক্তভোগী। রাতভর কাজ করে সকালে বাড়ি ফিরে গিয়ে ঘুমোন তাঁরা। কিন্তু এই ব্যক্তিরা ছোট থেকে বড় হয়েছেন রাতে ঘুমিয়েই। এ ক্ষেত্রে শরীর ঘুমোনোর অভ্যেসটা পুরোপুরি বদলে ফেলতে পারে না। ফলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়।
স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা আছে বুঝলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সঠিক ডায়েট ও ব্যায়ামে এই রোগের নিরাময় হতে পারে। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকেরা কন্টিনিউয়াস পসিটিভ এয়ারওয়ে প্রেশার (সিপ্যাপ) মেশিন ব্যবহার করারও পরামর্শ দেন।