ঘুম না আসার সমস্যায় ভুগে থাকেন বহু মানুষ। এর ফলে অনিদ্রাজনিত অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুমোনোর পরেও অনেকে সারা ক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করেন। এমন হওয়াটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। একটি দীর্ঘ আরামদায়ক ঘুমের পরেও যদি সারা ক্ষণ ঘুম পায়, ক্লান্ত লাগে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক এটিকে নিদ্রাজনিত অসুখ বলে চিহ্নিত করছেন। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে ‘স্লিপিং ডিসঅর্ডার’ বলা হয়।
আট ঘণ্টা ঘুমোনোর পরেও ক্লান্তি অনেকের পিছু ছাড়ে না। সারা দিন ধরে যেন ঝিমুনি আসে। চিকিৎসকদের মতে, এ ক্ষেত্রে কত ক্ষণ ঘুমোচ্ছেন, তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল কতটা মানসিক চাপ শরীর বহন করছে। খুব বেশি মানসিক চাপে ভুগলে ঘুম নাও আসতে পারে। ঘুম গভীর না হলে কিন্তু শারীরিক ক্লান্তির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক ভাবেও বিপর্যস্ত লাগবে। এ ছাড়া রাতে দীর্ঘ ক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা, কফি খাওয়ার অভ্যাসের কারণেও বার বার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। যাঁদের অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে, তাঁদের ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়, সে ক্ষেত্রেও ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে।
‘স্লিপিং ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছেন কি না, কোন লক্ষণগুলি দেখে বুঝবেন?
দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম পাওয়া, ঘুমের সময়ে নড়াচড়া করা, মাঝরাতে ঘুমের মাঝে জেগে ওঠা, এক বার ঘুম ভেঙে গেলে দীর্ঘ ক্ষণ ঘুম না আসা, দিনের যে কোনও সময় প্রবল ঘুম পাওয়া, জোরে জোরে নাক ডাকা— ঘুম সংক্রান্ত এই সমস্যাগুলি দেখা দিলে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা সম্ভব হলে পরবর্তীতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়া জীবনধারাতেও আনতে হবে বদল। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনোর পর যদি আবারও ঘুম পায় বা ক্লান্ত লাগে তা হলেও ‘স্লিপিং ডিসঅর্ডার’-এর শিকার হতে পারেন।
চিকিৎসকদের মতে, একমাত্র ঘুম কম হলেই সারা দিন ক্লান্তি থাকবে, এমনটা কিন্তু নয়। অ্যানিমিয়া, হাইপোথাইরয়েডিজ়ম, মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা থাকলেও ক্লান্ত মনে হতে পারে সারা দিন। তাই খুব বেশি দিন এই ঘুমের সমস্যা হলে, ফেলে না রেখে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।