রোজের ডায়েটে স্মুদি, তাজা ফলের রস, প্রোটিন শেক রেখে ভাবছেন বুঝি খুব স্বাস্থ্যকর খাচ্ছেন! তবে বিষয়টি কিন্তু আদৌ ততটা স্বাস্থ্যকর নয়। দ্রুত তৈরি করা যায় এবং প্রায়শই পুষ্টিগুণে ভরপুর হিসাবে বাজারজাত করা হয় বলে ব্যস্ত রুটিনের জন্য এগুলিকে ভাল বিকল্প মনে হতেই পারে। তবে রোজের রুটিনের জন্য এই খাবারগুলি কিন্তু মোটেই ভাল নয়।
এই পানীয়গুলিকে শরীর কী ভাবে গ্রহণ করছে, সেটা আগে বুঝতে হবে। গোটা খাবারের মতো নয়, তরল ক্যালোরি দ্রুত শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। ফলে বেশি ক্যালরির খাবার খেয়েও পেট ভর্তি হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ অজান্তেই শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করে ফেলেন।
ফলের রস তৈরির সময়, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফাইবারকে একেবারে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। ফাইবার রক্তে শর্করা শোষণের হার কমাতে সাহায্য করে। ফলে একটি গোটা ফল খেলে রক্তে ততটাও শর্করা মিশবে না, যতটা ফলের রস খেলে হবে।
প্রাকৃতিক শর্করা আছে ভেবে অনেকেই ফলের রসকে স্বাস্থ্যকর ধরে নে। তবে ফাইবার ছাড়া এই রসে যে পরিমাণ ফ্রুকটোজ় থাকে, তা শুধু রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়ায় না, লিভারের উপরেও খারাপ প্রভাব ফেলে।
অন্য দিকে, প্রোটিন শেককে অনেক স্বাস্থ্যসচেতন মানুষই একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে মনে করেন। তবে প্রোটিন শেক কিন্তু সবার পক্ষে খাওয়া মোটেও ঠিক নয়। পুষ্টিবিদের পরামর্শ ছাড়া প্রোটিন শেক না খাওয়াই ভাল। বাজারের অনেক প্রোটিন শেকে অতিরিক্ত চিনি, ফ্লেভারিং এজেন্ট এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি থাকে। প্রোটিনের প্রকৃত চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতার অভাবে, এগুলি নীরবে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তাই খাওয়ার আগে সতর্ক থাকাই ভাল।