যে কোনও অসুস্থতাতেই খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি। বিশেষত কিডনির সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ঠিকঠাক খাদ্যাভ্যাস রোগকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। কিডনির রোগের ওষুধ যাঁরা খান বা আগে কখনও কিডনিতে পাথর হয়েছে, এমন ক্ষেত্রে মরসুমি সব্জি বা ফল খাওয়ার ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। অনেকেই ভাবেন, কিডনিতে পাথর হলে পালংশাক বা টম্যাটোর মতো সব্জি খাওয়া যায় না। তা কি ঠিক?
কিডনির রোগীদের সোডিয়াম আর ফসফরাসসমৃদ্ধ খাবার মেপে খেতে বলা হয়। পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে অক্সালেট থাকে যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া পালংশাকে প্রচুর পটাশিয়াম থাকে, যা কিডনি ছেঁকে বার করে দিতে পারে না। তাই কিডনির অসুখ থাকলে বা পাথর হওয়ার প্রবণতা থাকলে, পালংশাক না খাওয়াই ভাল।
অনেকের ধারণা, টম্যাটো খেলে কিডনিতে পাথর হতে পারে। এই তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক নয়। টম্যাটোতে অক্সালেটের পরিমাণ পালংশাকের চেয়ে অনেক কম এবং এতে ‘সাইট্রেট’ থাকে যা পাথর জমা প্রতিরোধে সাহায্য করে। টম্যাটোর বীজে মূলত অক্সালেট ও ক্যালশিয়াম বেশি থাকে। তাই রান্নার সময়ে বীজ ও খোসা ফেলে রান্না করলে উপকার বেশি হবে।
আরও পড়ুন:
কোন কোন ফল ও সব্জি খাওয়া যাবে, কোনগুলি নয়?
কিডনি ভাল রাখতে আপেল ও নাশপাতি খেতে পারেন। পেঁপে, পেয়ারা ও আনারস খেলে কোনও সমস্যা হবে না।
যে কোনও রকম লেবু কিডনির রোগীদের জন্য মহৌষধ। লেবুর ‘সাইট্রিক অ্যাসিড’ কিডনিতে পাথর জমতে বাধা দেয় না।
ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো সব্জিতে পটাশিয়াম ও ফসফরাস কম থাকে, বদলে ফাইবার বেশি থাকে। তাই এই সব্জিও নিরাপদ।
শসা, ক্যাপসিকাম, লাউ, ঝিঙের মতো সব্জি যাতে জলীয় অংশ বেশি, সেগুলি কিডনির জন্য ভাল।
তবে কিডনির সমস্যা থাকলে কলা, আম, কাঁঠাল কম খাওয়াই ভাল। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে।
কিডনির রোগীদের জন্য কামরাঙার মতো ফল একেবারেই নিরাপদ নয়। এতে উচ্চমাত্রায় অক্সালেট থাকে, যা কিডনিতে পাথর জমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
মাশরুম, ব্রকোলি, বিট, ওলের মতো সব্জিও কম খাওয়া ভাল। এগুলিতেও ফসফরাসের মাত্রা বেশি থাকে যা কিডনির রোগীদের জন্য ভাল নয়।