Advertisement
E-Paper

অফিসে দিনভর ঠান্ডা ঘরে বসে কাজ, অজান্তেই শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ছে? কাজের ফাঁকে কতটা জল খাবেন?

গরমের দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে থাকলে বিপদ। এতে আরাম হবে ঠিকই, কিন্তু অজান্তেই শরীর ধীরে ধীরে জলশূন্য হয়ে পড়বে। এসি ঘরে টানা থাকলে পর্যাপ্ত জল পান করতেই হবে। ঠিক কতটা জল পানে ডিহাইড্রেশনের ভয় থাকবে না?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৫২
Staying in AC for Hours, Beware of Hidden Dehydration

এসি ঘরে টানা থাকলে কতটা জল খাবেন? ছবি: ফ্রিপিক।

গরম পড়তে শুরু করেছে। ঘড়ির কাঁটা ১১টা পার হতে না হতেই চড়া রোদ। ঘেমেনেয়ে কোনও রকমে বাতানুকূল ঘরে ঢুকে পড়লেই শান্তি। তার পর দিনভর এসি ঘরে বসে কাজ। এতে শরীরের আরাম হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু অজান্তে বিপদও ঘনাচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে একটানা থাকলে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে। অজান্তেই ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা বাসা বাঁধে শরীরে। ত্বক, চোখ এবং শ্বাসযন্ত্র শুকিয়ে যেতে থাকে। একে বলা হয় 'সাইলেন্ট ডিহাইড্রেশন'। যত ক্ষণ এসি ঘরে থাকবেন, তত ক্ষণ এর লক্ষণ বোঝা যাবে না। কিন্তু যে মুহূর্তে বাইরে বেরোবেন, তখনই মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, বমি ভাব শুরু হবে।

কেন এসি ঘরে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে?

শীতাতপ যন্ত্র চারপাশের বাতাসকে ঠান্ডা করে ঠিকই, কিন্তু প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প শোষণ করে নেয়। এই শুকনো বাতাস শরীরের উন্মুক্ত অংশ, যেমন ত্বক, ঠোঁট থেকে জল দ্রুত বাষ্পীভূত করে ফেলে। ঠান্ডা পরিবেশে শরীর ঘামে না। ফলে মস্তিষ্কে তৃষ্ণার সংকেত দেরি করে পৌঁছোয়। সে জন্য জল পিপাসা কম পায়। বেশির ভাগই ভাবেন, ঠান্ডায় থাকা মানে বেশি জল খেতে হবে না। অথচ শরীর তখন জলের অভাব অনুভব করছে। শ্বাসপ্রশ্বাস ও ত্বকের কোষ থেকে জলীয় অংশ প্রতিনিয়ত বেরিয়ে যেতে থাকে। ভিতরে ভিতরে শরীর জলশূন্য হয়ে পড়ে। ঠান্ডা ঘরে থাকার কারণে তা চট করে বোঝা যায় না। কিন্তু যে মূহূর্তে ঠান্ডা পরিবেশের বাইরে যাবেন ও তাপমাত্রার পার্থক্য ঘটবে, তখন থেকেই মাথাঘোরা, প্রচণ্ড ক্লান্তি, বমি ভাব শুরু হবে। হাত-পায়ে অসহ্য ব্যথা ভোগাবে, পেশিতে টান ধরবে। তাই যতই এসি ঘরে থাকুন না কেন, সময়ান্তরে পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও ডিটক্স পানীয় খেতেই হবে।

Advertisement

কতটা জল খাবেন?

প্রতি ১ ঘণ্টায় অন্তত ১ গ্লাস জলপানের চেষ্টা করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির যদি অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা না থাকে, তা হলে গরমের সময়ে দিনে অন্তত তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার জল পান করা জরুরি। যদি দীর্ঘ ক্ষণ এসিতে বসে কাজ করতে হয়, তা হলে অফিসের কাজের সময়টাতে কম করেও ১০-১২ গ্লাস জল পান করা প্রয়োজন।

তবে শুধু জল নয়, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নানা ডিটক্স পানীয় পান করতে পারলেও ভাল হয়। এতে শরীরে সোডয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় থাকবে, ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি হবে না।

কী কী পানীয় সঙ্গে রাখতে পারেন?

দু’কাপ জল আর এক কাপ ডাবের জল মিশিয়ে নিন আগে। এর পর তাতে আধ কাপের মতো মুসাম্বির রস, এক চামচ পাতিলেবুর রস, সৈন্ধব লবণ আধ চামচ, মধু ১ থেকে ২ চামচ মিশিয়ে দিন। উপর থেকে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিন। এই পানীয় কাচের শিশিতে ভরে সঙ্গে রেখে দিতে পারেন। সারা দিন অল্প অল্প চুমুকে খেতে হবে।

২ থেকে ৩ কাপ জল নিতে হবে। এ বার কাচের জারে জল নিয়ে তাতে এক কাপ আনারসের টুকরো, ৫-৬টি পুদিনা পাতা ভিজিয়ে রাখুন ঘণ্টা দুয়েক। তার পর সেই জল খেতে হবে। অফিসে যাওয়ার সময়ে সঙ্গে নিয়ে নিতে পারেন।

কাচের বোতলে শসা কুচি, লেবুর টুকরো এবং পুদিনা পাতা দিয়ে জল ভরে নিন। খাওয়ার আগে অন্তত ১-২ ঘণ্টা বোতলটি ফ্রিজে রেখে দিন। সারা দিন ধরে এই পানীয় অল্প অল্প করে খেতে থাকুন। এতেও শরীরে জলের ঘাটতি মিটবে।

Dehydration Hydration Tips
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy