কেউ বলছেন, ‘‘সকালে উঠে জল নয়, অমুক বীজ খাও।’’ কেউ বলছেন, ‘‘মুখে ওটা মাখছ? বিপদ অনিবার্য।’’ রূপচর্চা হোক বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়— সমাজমাধ্যম এবং লোকমুখে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নানা মত পাওয়া যায়। কিন্তু তার মধ্যে ঠিক-ভুল বুঝতে না পারলেই বিপদ।
আরও পড়ুন:
নতুন বছর শুরু হয়েছে। এই বছরেই বরং কিছু কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা বাদ দিন। ভাবুন নতুন করে।
ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা সহ্য করাই উচিত: ঋতুস্রাবের সময়ে কারও কারও তলপেটে, কোমরে, ঊরুতে ব্যথা হয়। পেশিতে টান ধরে। অল্প-সল্প ব্যথা-বেদনা নিয়ে চিকিৎসকেরা চিন্তিত হতে বারণ করেন ঠিকই, তবে ব্যথা যদি নিয়মিত এবং মাত্রাতিরিক্ত হয়, তবে তা স্বাভাবিক ভেবে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় সিস্ট বা অন্য নানা কারণে যন্ত্রণা হয়। কোনটা উদ্বেগের, কোনটা নয়, তা কিন্তু চিকিৎসকই বলতে পারবেন। তা ছাড়া, অতিরিক্ত কষ্ট উপেক্ষা করা মানে, কোনও সমস্যা থাকলে তা চিহ্নিত হতেও দেরি হওয়া। যা ভবিষ্যতে বিপজ্জনক হতে পারে।
চুল-ত্বকের সমস্যা যত্নের অভাব: গোছা গোছা চুল ঝরছে কিংবা শুষ্ক ত্বক, এই সব কিছুই পরিচর্যার অভাব বলে মনে করছেন? চুল ঝরা, চুল ভেঙে যাওয়া বা শুষ্ক ত্বকের নেপথ্যে হরমোনের ভূমিকাও থাকতে পারে। থাকতে পারে কোনও অসুখ। থাইরয়েড-সহ একাধিক হরমোনের হেরফেরে চুল ঝরতে পারে, ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া লিভারের সমস্যা থেকেও মুখে ব্রণ, কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। আবার চুল ঝরার নেপথ্য কারণ হতে পারে মাথার ত্বকে সংক্রমণ। তাই ত্বক-চুলের সমস্যা এতটাও অবহেলা করা ঠিক নয়।
বয়স না হলে হার্ট সংক্রান্ত পরীক্ষার প্রয়োজন নেই: অনেকেই ভাবেন, কম বয়সে স্বাস্থ্য পরীক্ষার কী দরকার? পুরুষ হোন বা মহিলা— চিকিৎসকেরা বলছেন, বছরে এক বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে অনেক অসুখই আগাম চিহ্নিত করা সম্ভব।মহিলাদের ক্ষেত্রে কার্ডিয়োভাস্কুলার অসুখ বা হার্টের অসুখের প্রবণতা বাড়ছে। তা ছাড়া হার্ট অ্যাটাক এখন বয়স দেখে হয় না। তাই বয়স কম হলেও, এ নিয়ে হেলাফেলা করা অনুচিত।
স্তনে ব্যথা মানেই ক্যানসার: স্তন ক্যানসার নিয়ে চিকিৎসকেরা অবশ্যই সতর্ক থাকতে বলেন। তবে স্তনে ব্যথা হওয়া বা কিছু মাংসপিণ্ড রয়েছে মানেই শুরুতে ক্যানসার ভেবে আতঙ্ক অর্থহীন। হরমোনের ভারসাম্যে এ দিক-ও দিক হলে স্তনে ব্যথা হতে পারে। সেটা স্বাভাবিকও। অনেক সময় সিস্ট বা টিউমারও হয়। অবশ্যই এই ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কিন্তু শুরুতে আতঙ্কিত না হওয়াই ভাল।
মানসিক সমস্যার নিজে থেকেই সমাধান সম্ভব: হরমোনের ওঠা-পড়া মনোজগতে গভীর প্রভাব ফেলে। শরীর যেমন খারাপ হয়, মনের ক্ষেত্রেও তেমনটা হতে পারে। জ্বর, সর্দি-কাশি হলে যদি চিকিৎসকের কাছে যাওয়া যায়, তা হলে দিনের পর দিন দুশ্চিন্তা, আতঙ্কে ভুগলেও মনোবিদ বা মনোরোগ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। এই নিয়ে দ্বিধা কাটানো খুব জরুরি।