Advertisement
E-Paper

চিনি মানেই চিরশত্রু নয়, বদল দরকার ভাবনায়, কেন বলছেন করিনার পু্ষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকর

চিনি এখন হয়ে উঠেছে চিরশত্রু। স্বাস্থ্যসচেতনতার কথা উঠলেই নানা জনে বলছেন, ভাল থাকতে বাদ দিতে হব চিনি। প্রচারের বাড়াবাড়িতে মনে হতেই পারে, চিনি মুখে দিয়ে ফেলা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তবে সত্যি কি চিনি এতটাই ক্ষতিকর?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:০৩
মিষ্টি খেয়ে ফেললেই অপরাধ বোধে ভুগছেন? চিনি  কি ততটাও বিপজ্জনক?

মিষ্টি খেয়ে ফেললেই অপরাধ বোধে ভুগছেন? চিনি কি ততটাও বিপজ্জনক? ছবি: সংগৃহীত।

ছোটবেলায় ঠাকুমা-দিদিমারা বাড়ির খুদে সদস্যদের হাতে ধরিয়ে দিতেন যত্নে বানানো নাড়কেল নাড়ু, তিলের তক্তি আরও কত কী! এমন নাড়ু, মোয়া, গুড়ের লোভেই ছোটরাও উন্মুখ হয়ে থাকত। অতিথি আপ্যায়ন হোক বা শেষপাতের তৃপ্তি, সবটাই ছিল মিষ্টি বা তেমন কোনও খাবার।

চিরপরিচিত মিষ্টি, চিনি এখন হয়ে উঠেছে চিরশত্রু! স্বাস্থ্যসচেতনতার কথা উঠলেই লোকে বলছেন, ভাল থাকতে গেলে চিনি বাদ। প্রচারের বাড়াবাড়িতে মনে হতেই পারে, চিনি মুখে দিয়ে ফেলাটা যেন অপরাধের! এত দিন নির্দ্বিধায় চা থেকে চাটনি, লাড্ডু থেকে নাড়ুতে যে চিনি খেয়ে এসেছেন মানুষজন, তা কি এতটাই ক্ষতিকর?

চিনি ভাল না খারাপ

শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার। কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ভেঙে তৈরি হয় গ্লুকোজ়, যা রক্তে মেশে। চিনি হল এক ধরনের কার্বোহাইড্রেট। চিনি বা শর্করারও প্রকারভেদ রয়েছে, যেমন গ্লুকোজ়, ফ্রুক্টোজ়, গ্যালাক্টোজ়, ল্যাক্টো‌জ়, স্টার্চ, সুক্রোজ়। শর্করা শুধু শক্তি জোগায় না, মস্তিষ্কের কার্য পরিচালনার জন্য বিশেষ ধরনের গ্লুকোজ় অত্যন্ত জরুরিও। কৃত্রিম চিনি বেশি খাওয়া হলে অবশ্যই তা ক্ষতিকর, তবে শর্করা মাত্রেই যে অস্বাস্থ্যকর, তা কিন্তু নয়।

বলিউড তারকাদের পুষ্টিবিদ রুজুতা দিবেকরের মতে, চিনি বিষ নয়, বরং জীবনযাপনের ভুলেই তা ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। করিনা কপূর, বরুণ ধবন-সহ অনেক তারকাই ফিট থাকতে রুজুতার পরামর্শ মানেন। পুষ্টিবিদের বক্তব্য, ভারতীয় মিষ্টি ,যেমন গুড়, অপরিশোধিত চিনি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে নানা ভাবে। চিনি দেখলেই লোকজন অতিমাত্রায় সতর্ক হয়ে যাচ্ছেন। মিষ্টি খাওয়া নিয়ে মনে ধন্দ তৈরি হচ্ছে।

রুজুতার পরামর্শ, জীবন থেকে চিনি পুরোপুরি বাদ না দিয়ে, শর্করার গুরুত্ব বোঝা জরুরি। মা-ঠাকুরমাদের দেখানো পথে হাঁটা উচিত।

চিনি থাকলেও প্রথাগত খাবার খান: অচেনা বা রকমারি চিনিবিহীন স্ন্যাক্সের বদলে ঘরোয়া যে সব খাবার ছোট থেকে মা-ঠাকুরমারা খাইয়ে এসেছেন, সেগুলি খাওয়া ভাল, মনে করাচ্ছেন রুজুতা। এতে চিনি থাকলেও সমস্যা নেই।

পালাপার্বণে মিষ্টি উপভোগ করুন: অনুষ্ঠানের দিনে মিষ্টি মুখ করা ভারতীয় সংস্কৃতি। সেই রীতি নির্দ্বিধায় মানার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদ। মিষ্টি খেয়ে ফেলার পরেও অপরাধবোধে ভোগার দরকার নেই।

চিনির সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার: মিষ্টি খেলে সঙ্গে ফাইবার জাতীয় খাবার খান। ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শুধু মিষ্টি না খেয়ে, স্বাস্থ্যকর খাবারের সঙ্গে তা জুড়লে ক্ষতির আশঙ্কা কমবে।

চিনির বদলে গুড়: পরিশোধিত সাদা চিনির বদলে ভাল মানের গুড় বা অপরিশোধিত চিনি খাবারে ব্যবহার করুন। গুড়ে অল্প মাত্রায় হলেও কিছু খনিজ মেলে। শীতের দিনে গুড় দিয়ে তৈরি লাড্ডু বিনা দ্বিধায় খাওয়া যেতে পারে।

প্যাকেটজাত মিষ্টি নয়: ইদানীং প্যাকেটাজাত মিষ্টি খাবার খাওয়ার চল বেড়েছে। তবে রুজুতা বলছেন, মিষ্টি খেতে ইচ্ছা হলে পায়েস, হালুয়া, নাড়ু, লাড্ডু ইত্যাদি ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া ভাল।

Sugar
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy