গলায়, ঘাড়ে বা বাহুমূলের নীচে কালচে দাগ দেখা দেয় অনেকের। ঘাড়ের কাছে চামড়া কুঁচকে যাওয়া, সেখানে ফুস্কুড়ি, চুলকানির সমস্যাও হয়। অনেকেই ভাবেন, ময়লা জমে কালচে দাগ হয়েছে। তা কিন্তু নয়। এই কালচে দাগের নেপথ্যে কারণ হতে পারে ‘অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকানস’।
রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট’ হলে ত্বকের মেলানিন রঞ্জকের তারতম্য দেখা দেয়। চামড়া কুঁচকে যেতে শুরু করে। টাইপ ২ ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রেও রোগীর শরীরে এমন লক্ষণ দেখা দেয় অনেক সময়েই। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। এতে যে শরীরের বড় ক্ষতি হতে পারে এমনটাও নয়। তবে ঘষাষষি করে এই দাগ তোলার চেষ্টা করাই বৃথা। এতে দাগ উঠবে না। বদলে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্ট’ কী ভাবে স্বাভাবিক করা যায়, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিতে হবে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে পেশি, চর্বি এবং লিভারের কোষগুলি ইনসুলিন হরমোনের প্রতি যতখানি সাড়া দেওয়া উচিত তা দেয় না। আর তাতেই বাড়ে সমস্যা।
গলায় এমন দাগ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছেই যাওয়া জরুরি। সেই সঙ্গে, জীবনযাপনে কিছু বদলও আনতে হবে। শুধু ওষুধের উপর নির্ভর করে থাকলে হবে না। প্যাকেটজাত, ভাজাভুজি, চিজ়যুক্ত খাবার, অতিরিক্ত চকোলেট খাওয়া বন্ধ করতে হবে। তার বদলে সুষম আহার প্রয়োজন। রোজ প্রচুর পরিমাণে শাকসব্জি, ফল খাওয়া জরুরি। মরসুমি ফল রাখুন রোজের খাদ্যতালিকায়। স্ন্যাক্স খাওয়ার ইচ্ছা হলে, শুকনো কড়াইয়ে নাড়া মুড়ি, চিঁড়ে, মাখানা রাখতে পারেন। চপ-কাটলেট খাওয়া চলবে না। স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যের জন্য ভাল, এমন খাবার বেছে নিতে হবে।
ওজন বেশি থাকলে তা কমানোয় নজর দিতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনে হাঁটাহাঁটি, ব্যায়াম, যোগাসন করতে হবে।