কিডনি এক দিকে দেহের বর্জ্য পদার্থ পরিশুদ্ধ করে, অন্য দিকে বিভিন্ন খনিজ লবণের ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়তা করে। কিডনির অসুখ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। অনেক ক্ষেত্রেই একটি কিডনি বিকল হয়ে গেলেও কাজ চলতে থাকে অন্যটি দিয়ে, ফলে ক্ষতি সম্পর্কে আগে থেকেই আঁচ করা যায় না। প্রায় ৮০-৯০ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত সে সম্পর্কে খুব একটা সচেতন হন না অনেকেই। বিশেষ করে কিডনির অসুখে খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে বেশ সচেতন থাকতে হয়। এমন কিছু খাবার আছে যা কিডনির অসুখ ধরা পড়লে এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। দেখে নিন, কী কী রয়েছে সেই তালিকায়।
নুন: কিডনির রোগীদের নুন খাওয়ার বিষয় খুব সতর্ক থাকতে হবে। বেশি নুন বা খাবারের সঙ্গে কাঁচা নুন একে বারেই খাওয়া ছলবে না। চিপ্স, বাজারচলতি নোনতা খাবার, পাঁপড়, আচার— এমন অনেক খাবারেই বাড়তি নুন থাকে। এ ছাড়া প্রক্রিয়াজাত খাবারেও অধিক পরিমাণে নুন থাকে। কি়ডনির রোগীদের এগুলি খাওয়া ছলবে না।
প্রোটিন: কিডনির রোগীদের বেশি বেশি প্রোটিন খেলে চলবে না। প্রোটিনের বিষয় এ ক্ষেত্রে বেশ সচেতন থাকতে হবে। একেবারে বন্ধ করে দিলেও কিন্তু মুশকিল। কতটা কাওয়া যাবে তা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়াই ভাল। কিডনির অবস্থা কেমন আর শরীরের ওজন কত, তার উপরেই নির্ভর করবে কতটা পরিমাণ প্রোটিন রোগী খেতে পারবেন।
পটাশিয়াম ও ফসফরাস: কিডনি রোগীদের পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিকারক হল পটাশিয়াম আর ফসফরাস, এই দুই খনিজ। তাই যে সব খাবারে এই দুই উপাদান থাকে, সেগুলি এড়িয়ে চলাই ভাল কিডনিরোগীদের। উচ্চমাত্রায় পটাশিয়াম থাকে যে সব ফ্লে, যেমন কলা, আম, খেজুর, কমলালেবু ইত্যাদি এবং সব্জির মধ্যে আলু, টম্যাটো খাওয়া চলবে না। কিডনির রোগীদের জন্য সবুজ শাকসব্জি না খাওয়াই ভাল। খেতে হলেও মানতে হবে নিয়ম। প্রথমে শাক কেটে সেগুলিকে জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে, তার পর জল ফেলে খানিক ক্ষণ গরম জলে ডুবিয়ে রাখা জরুরি। শেষে গরম জল ছেঁকে ফেলে দিয়ে তার পরেই রান্না করা দরকার।