Advertisement
E-Paper

ডাল খাওয়ারও নিয়ম আছে, দিনে কতটা খাওয়া ভাল? কারা খাবেন আর কারা বেশি খেলে ক্ষতি হবে?

ডাল-ভাত পছন্দ? রোজ ডাল খেলে পরিমাণটা জানেন তো? ডালের যেমন পুষ্টিগুণ আছে, তেমনই বেশি খেলে বদহজমের সমস্যাও হবে। কতটা ডাল খাওয়া শরীরের জন্য ভাল, তা জেনে রাখা জরুরি।

শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:২২
Understanding Your Bowl of Lentils, benefits, risks, and the Right Way to eat

ডাল কতটা খেলে ভাল? ছবি: ফ্রিপিক।

বাঙালি ডাল-ভাত খেতেই বেশি পছন্দ করে। সব ধরনের ডালেরই নিজস্ব পুষ্টিগুণ রয়েছে। কোনটি বেশি উপকারী, তা নির্ভর করবে শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজনের উপরে। এখন সুষম ডায়েটে ভাত-ডাল খাওয়ারই বেশি পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা। এ দেশে এত রকমের ডাল পাওয়া যায় যে, তার থেকেই প্রয়োজনীয় প্রোটিন পেতে পারে শরীর। তবে ডাল বাটি বাটি খেলেই যে পুষ্টি হবে তা নয়। ডাল খাওয়ার নিয়ম আছে। কতটা ডাল খেলে শরীরের উপকার হবে, তা জেনে রাখা জরুরি। কাদের জন্য ডাল খাওয়া স্বাস্থ্যকর আর কাদের জন্য নয়, তা-ও জেনে নিতে হবে।

কতটা ডাল খাওয়া ভাল?

ডাল উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আয়রন ও পটাশিয়ামও আছে। ডাল রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, হার্ট ভাল রাখে। ডাল রোজ খেলে ক্ষতি নেই। তবে পরিমাণ মতো খেতে হবে। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ১ থেকে ২ বাটি (মাঝারি মাপের)ডাল খাওয়া ভাল। যদি নিয়মিত ওজন তুলে ব্যায়াম করেন বা বেশি কায়িক পরিশ্রমের কাজ করেন, তা হলে এই পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে সাধারণত দিনে ২ বাটির বেশি ডাল খাওয়া ঠিক নয়। এতে শরীরে পিউরিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

Advertisement

ডাল খাওয়া কাদের জন্য বেশি ভাল?

জিমে গিয়ে ওজন তুলে ব্যায়াম করলে বা বাড়িতে নানা ধরনের শরীরচর্চা নিয়মিত করলে পেশির জোর বৃদ্ধিতে প্রোটিনের প্রয়োজন হবে। তা ডাল থেকে ভরপুর মাত্রায় পাওয়া যাবে। বাজারচলতি প্রোটিন শেক না খেয়ে বরং এক বাটি ডাল খাওয়া বেশি উপকারী হবে।

নিরামিষ আহার যাঁরা করেন, তাঁদের মাছ, মাংস বা ডিমের প্রোটিনের ঘাটতি পুষিয়ে যাবে ডালে। কাজেই এমন ব্যক্তিদের প্রতি দিনই পরিমিত পরিমাণে ডাল খাওয়া জরুরি।

ওজন কমাতে চাইছেন যাঁরা, তাঁরা রোজের ডায়েটে ডাল রাখতে পারেন। বিশেষ করে মুগ ডাল খেলে মেদ দ্রুত কমবে। ইউরিক অ্যাসিডের জন্য মুসুর ডাল খাওয়া বারণ হলে বিকল্প হিসেবে মুগ ডাল খাওয়া যেতে পারে।

ডায়াবিটিসের রোগীরা ডাল খেলে উপকার পাবেন। ডালে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়বে না।

বাড়ন্ত শিশুর হাড় ও পেশি গঠনের জন্য ডাল খাওয়া জরুরি। ডাল খেলে হাড়ের জোর বাড়বে।

কারা কম খাবেন?

ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে ডাল কম খাওয়া উচিত। বিশেষ করে খোসাসমেত ডাল বা রাজমা কম খেতে হবে।

কিডনির সমস্যায় প্রোটিন বেশি বেরিয়ে যেতে পারে না শরীর থেকে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ডাল খাওয়া উচিত নয়।

তীব্র গ্যাস বা হজমের সমস্যা থাকলে বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) থাকলে ডাল কম খাওয়া উচিত। বিশেষ করে রাতে ডাল এড়িয়ে চলাই ভাল।

ডাল খাওয়ার নিয়ম

রান্নার আগে ডাল অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা উচিত। এতে ডালে থাকা ফাইটিক অ্যাসিড ও অলিগোস্যাকারাইড দূর হবে। এই দুই উপাদানই গ্যাস ও বদহজমের কারণ হয়ে ওঠে।

ডাল সেদ্ধ হওয়ার সময়ে উপরের সাদা ফেনা ফেলে দিতে হবে। ওই ফেনায় প্রচুর পিউরিন থাকে যা ইউরিক অ্যাসিড বাড়িয়ে দিতে পারে।

ডাল রান্নার সময়ে আদা, জিরে, হিং বা জোয়ান ফোড়ন দিতে পারেন, এতে হজম ভাল হবে।

পাঁচ থেকে সাত রকম ডাল মিশিয়ে খাবেন না, এতে হজমের সমস্যা আরও বাড়বে। যদি ডাল মিশিয়ে খেতে হয়, তা হলে অন্যান্য প্রোটিন কম খেতে হবে।

রোজ একই ডাল না খেয়ে মুগ, মুসুর, অড়হর বা বিউলির ডাল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খান, এতে পুষ্টি বেশি হবে।

Dal Pulses Lentils
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy