অনেক সময়েই দেখা যায়, ব্যায়াম ও ডায়েটের ফলে ওজন কমলেও শরীরের কিছু অংশে নাছোড়বান্দা মেদ রয়ে যায়। হাত তেমনই একটা অংশ। হাতের উপরের অংশ এবং বাহুমূলের মেদ কমানোর জন্য আলাদা ব্যায়াম রয়েছে। তবে মেদ কমানোর পাশাপাশি পেশি শক্ত করা জরুরি, নয়তো পেশির শিথিলতা বাড়বে। এমন ব্যায়াম করতে জিমে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়িতে সহজ যোগাসনেই তা সম্ভব। কাঁধের পেশি সুগঠিত করতে ও সুঠাম বাহু পেতে নিয়মিত অভ্যাস করতে হবে বন্ধন কন্ধরাসন।
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপর টানটান হয়ে শুয়ে পড়ুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
২) এ বার হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা মাটিতে রাখতে হবে।
৩) ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে কাঁধ ও পায়ে ভর দিয়ে কোমর ও পিঠ মাটি থেকে তুলতে হবে। পিঠ ধনুকের মত বেঁকে থাকবে।
৪) আসনটি করার সময়ে খেয়াল রাখতে হবে মাথা, ঘাড় ও কাঁধ যেন মাটিতে ঠেকে থাকে। হাত থাকবে গোড়ালির কাছে।
আরও পড়ুন:
৫) এ বার দুই হাতের আঙুলগুলি জড়ো করে রাখতে হবে। এতে কাঁধ ও হাতের পেশিতে টান আরও বাড়বে।
৬) এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ডের মতো থেকে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হবে।
উপকারিতা:
১) ঘাড় ও কাঁধের ব্যথা কমবে আসনটি অভ্যাসে।
২) স্পন্ডিলাইটিসের যন্ত্রণা খুব ভোগালে আসনটি অভ্যাস করতে পারেন।
৩) কাঁধের ব্যথা বা ফ্রোজ়েন শোল্ডারের যন্ত্রণা কমবে নিয়মিত এই আসন অভ্যাসে।
৪) কুঁজো হয়ে হাঁটার অভ্যাস দূর হবে, শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকবে।
৫) সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে, মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়বে।
৬) হাতের মেদ ঝরবে, কাঁধের পেশিও সুগঠিত হবে।
৭) মনঃসংযোগ বাড়বে, স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটবে।
কারা করবেন না?
পেটে আলসার থাকলে আসনটি করা যাবে না।
হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করবেন না।
মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হলেও আসনটি করা যাবে না।