রোজের ব্যস্ততায় নাকে-মুখে গুঁজেই ছুটতে হয় অফিস। বাড়ি ফিরেও সংসারের নানা কাজ। দু'দিক সামলাতে গিয়ে মানসিক চাপ বেড়ে যাচ্ছে। উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা যাচ্ছে না। এতে যেমন অফিসেও কাজের ক্ষতি হচ্ছে, তেমনই পরিবারের সঙ্গেও সময় কাটাতে পারছেন না ঠিকমতো। এরই সঙ্গে দেখা দিচ্ছে ছোটখাটো বিষয়েও ভুলে যাওয়ার সমস্যা। সৃজনশীল কাজের জন্য যেমন চিন্তাভাবনা দরকার, সেগুলোও আর ঠিকমতো করতে পারছেন না। ভাবতে বসলেই দুশ্চিন্তা এসে মন-মগজ গ্রাস করছে। ফিটনেস প্রশিক্ষকদের পরামর্শ, মনের উপর চাপ কমাতে এবং বুদ্ধির গোড়ায় শান দিতে যোগাসনই অন্যতম বড় ভরসা হতে পারে। যদি দেখেন মানসিক চাপ বেড়ে গিয়েছে, তা হলে নিয়মিত অভ্যাস করুন যোগাসনের এক বিশেষ পদ্ধতি।
মকরাসন অভ্যাসে মানসিক চাপ তো কমবেই, হাত-পায়ের পেশিরও স্ট্রেচিং হবে। একটানা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থেকে ঘাড় ও কাঁধের ব্যথায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের জন্য উপকারী যোগাসনের এই পদ্ধতি।
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
২) মাথা মাটি থেকে যতটা সম্ভব উপরে তুলুন। বুক, পেট মাটিতে ঠেকে থাকবে। একই সঙ্গে দু’হাত ভাঁজ করে মাথার পিছনে নিয়ে যান। দু’হাতের আঙুল সংযুক্ত করে মাথার উপর রাখুন।
৩) মাটিতে সমান্তরাল ভাবে রাখা পা দু’টি ধীরে ধীরে উপরে তুলুন। হাঁটু পর্যন্ত তুলে ফেলতে পারলে ভাল। খেয়াল রাখবেন, পেট থেকে ঊরু যেন মাটি স্পর্শ করে থাকে।
আরও পড়ুন:
৪) শ্বাস নিতে নিতে মাটি থেকে মুখ, গলা এবং পা উপরের দিকে তুলতে হবে। ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন।
৫) এর পর শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে একই ভাবে মাথা থেকে হাত সরিয়ে দেহের দু’পাশে রাখুন। পা দু’টিও মাটিতে নামিয়ে ফেলুন। মাথা রাখুন মাটিতে, আরামদায়ক অবস্থানে ফিরে আসুন।
৬) মাটি থেকে পা তোলা এবং আবার নামিয়ে আনা— এই গোটা বিষয়টা সম্পূর্ণ করলে তবে একটা রাউন্ড হবে। মোটামুটি পাঁচ-সাত বার অভ্যাস করতে পারলে ভাল।
উপকারিতা:
মাথাযন্ত্রণা, মাইগ্রেনের সমস্যা থাকলে তা কমবে।
নিয়মিত অভ্যাসে মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমে যাবে।
ঘাড় ও কাঁধের যন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবেন।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতেও সাহায্য করবে এই যোগাসন।
সারা শরীরে স্ট্রেচিং হবে, এতে পেশির জোর বাড়বে।
কারা করবেন না?
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আসনটি করবেন না।
হার্টের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া আসনটি করা যাবে না।
হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার হলে আসনটি না করাই ভাল।