বয়স ৫২ বছর। এই বয়সে নানা রকম শারীরিক সমস্যা উপর্যুপরি ব্যতিব্যস্ত করে তোলে। কারও কোমরে, কারও হাঁটুতে, কারও ঘাড়ে-পিঠে-হাতে-পায়ের অস্থিসন্ধিতে বয়স নিজের উপস্থিতি জানান দেয়। তার সঙ্গে অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়া, নানা রকমের পরিস্থিতির চাপে মানসিক ক্লান্তি তো রয়েছেই। তবু তার মধ্যেই নানা জনে নানা ভাবে ভাল থাকার চেষ্টা করেন। অভিনেত্রী তথা লেখিকা টুইঙ্কল খন্না জানালেন, এই বয়সে তাঁর ভাল থাকার টোটকা কী।
টুইঙ্কলও ৫২ বছরের সীমা পেরিয়ে এসেছেন। যদিও তাঁকে দেখলে একেবারেই মনে হয় না যে, বয়স খুব বেশি বাগে আনতে পেরেছে তাঁকে। নানা কাজে ব্যস্ত থাকেন, কখনও পডকাস্ট করছেন, কখনও লিখছেন বই, অন্দরসজ্জার কাজ করছেন, আবার শুটিংও করছেন। এর উপর তারকা হিসাবে সামাজিক যোগোযাগ বজায় রাখা এবং তারকাপত্নী হিসাবে সাংসারিক কিছু দায়িত্বও সামলাতে হয় তাঁকে। এত কিছু সামলে ফিট থাকেন কী করে? সম্প্রতি নিজের অবসরযাপনের একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন টুইঙ্কল। যার সারমর্ম হল— টুইঙ্কলের ভাল থাকার নেপথ্য কারণ তাঁর সারা দিন অ্যাক্টিভ থাকা বা সক্রিয় থাকার অভ্যাস। এমনকি, শুটিং চলাকালীন ফাঁকা সময় পেলেও এক মুহূর্ত চুপ করে বসে থাকেন না তিনি।
টুইঙ্কলও ৫২ বছরের সীমা পেরিয়ে এসেছেন। ছবি: সংগৃহীত।
ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, শুটিংয়ের ডাক পড়ার আগে বা মাঝের ফাঁকা সময়ে কী কী করছেন টুইঙ্কল।
১। প্রথমে একটি সিঁড়িতে বার বার ওঠানামা করতে দেখা যাচ্ছে তাঁকে। সবচেয়ে নীচের ধাপটিতেই এক বার উঠছেন, দু’পা রাখছেন, তার পরে আবার নীচে নেমে দাঁড়াচ্ছেন। ক্রমাগত। একটুও না থেমে। আর এমন করার সময় নিজের শিরদাঁড়া সোজা রেখে হাত মুঠো করে উপর থেকে নীচে নামাচ্ছেন তিনি। টুইঙ্কল জানিয়েছেন, তিনি আসলে সিঁড়িকেই জিম হিসাবে ব্যবহার করছিলেন।
সিঁড়িকে বানিয়েছেন জিম, চেয়ার যোগাসনের জায়গা। ছবি: টুইঙ্কল খন্নার ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে।
২। এর পরে তাঁকে দেখা যাচ্ছে একটি রিভলভিং চেয়ারে দু’পা উঠিয়ে মুড়ে বসে ভ্রামরী প্রাণায়াম অভ্যাস করতে। টুইঙ্কল লিখেছেন ‘অ্যগ্রেসিভ ভ্রামরী’। অর্থাৎ প্রতিকূল পরিস্থিতিতে খানিক জোর করেই করছেন প্রাণায়াম।
৩। এ ছাড়া কখনও তাঁকে দেখা যাচ্ছে, গান শুনতে শুনতে বসে বসেই শরীর দুলিয়ে মাথা নাড়িয়ে নাচতে। আবার কখনও হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে নিজের জামা ইস্ত্রি করছেন, কখনও হাঁটতে হাঁটতে স্ক্রিপ্ট পড়ছেন, পেনসিল দিয়ে বদলও করছেন তাতে।
মোট কথা, এক জায়গায় স্থির হয়ে শুয়ে বা বসে থাকছেন না। মোবাইলও ঘাঁটছেন না, কিছু না কিছু করছেন। এ যুগে নানা সমস্যার মূলে স্থবির জীবনযাপনকে দায়ী করছেন চিকিৎসকেরা। টুইঙ্কল বোঝালেন, সর্ব ক্ষণ সচল থাকাই তাঁর ভাল থাকার চাবিকাঠি।