Advertisement
E-Paper

রোজের কিছু ওষুধও বাড়িয়ে দিতে পারে রক্তচাপ,কোন কোনটি অজান্তে খেয়ে বিপদ বাড়িয়ে তুলছেন?

রোগ হলেই নিজে থেকে ওষুধ খেয়ে ফেলার প্রবণতা কমবেশি সকলেরই থাকে। সামান্য সর্দি-জ্বরেই বা কে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করেন? অথচ রোজের খাওয়ার কিছু চেনা ওষুধও হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ মার্চ ২০২৬ ১৪:৫১
Which types of medicines could be quietly raising your blood pressure

ভুল ওষুধ খেলেও বাড়তে পারে রক্তচাপ। ফাইল চিত্র।

বাড়িতে ওষুধের বাক্সে একগাদা ওষুধ জমিয়ে রাখেন। কোনওটি জ্বরের, কোনওটি সর্দি-কাশির, আবার কোনওটি পেটের সমস্যার। তা ছাড়া আরও নানা রকম ওষুধও ঠাঁই পায় ওষুধের বাক্সে। রোগ হলেই সেগুলি বার করে খেয়ে নেওয়াই অভ্যাস। জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে ক’জনই বা চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করে ওষুধ খান! মাথা যন্ত্রণা হলে তার ওষুধও নিজেই কিনে আনেন। অনেকে তো আবার নানা রকম অ্য়ান্টিবায়োটিক ও অবসাদ কমানোর ওষুধও মজুত করে রাখেন জরুরি অবস্থার জন্য। এই যে ওষুধ জমানো ও তা খেয়ে ফেলার অভ্যাস, তা একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়। ভুল ওষুধ দিনের পর দিন খেয়ে গেলে অজান্তেই রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। কোন কোন ওষুধে তা হতে পারে, জেনে রাখা জরুরি।

অনেক সময়ে দেখা যায়, উচ্চ রক্তচাপের রোগী নিয়মিত ওষুধ খাচ্ছেন, অথচ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকছে না। এর কারণই হল না জেনে ভুল ওষুধ খেয়ে ফেলার অভ্যাস। যেমন, কাশির সিরাপ বা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। কাশির সিরাপ নিয়ে এমনিতেই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবুও অনেক বাড়িতে এই ওষুধটি মজুত থাকেই। খুশখুশে কাশি হলে কমবেশি অনেকেই কাশির সিরাপ খান। খেয়াল করবেন, যে সিরাপে ডাইইথিলিন গ্লাইকল (ডিইজি), ইথিলিন গ্লাইকল (ইজি) বা কোডিনের মতো উপাদান রয়েছে, সেটি ক্ষতিকর। এই ওষুধ খেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে বাধ্য। আবার সাধারণ ব্যথানাশক কিছু ওষুধ অনেকেই সংগ্রহে রাখেন। পেট ব্যথা, পড়ে গিয়ে আঘাত লাগলে বা হাত-পায়ে ব্যথা হলে যদি ঘন ঘন সেই সব ওষুধ খান, তা হলেও রক্তচাপের হেরফের হতে পারে। এই ধরনের ওষুধ সাময়িক ভাবে ব্যথা কমালেও, রক্তনালিকে সঙ্কুচিত করে দেয়। ফলে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতে প্রভাব পড়ে হার্টের উপরেও।

কোন ওষুধ সঠিক, আর কোনটি নয়, তা চিকিৎসকের থেকে জেনে নেওয়াই জরুরি। অথচ তা মানা হয় না বেশির ভাগ সময়েই। যেমন সাধারণ সর্দি বা জ্বর হলে যে ওষুধগুলি খাওয়া হয়, ছোটদেরও দেওয়া হয়, সেগুলি কি আদৌ নিরাপদ? চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, সর্দি বা জ্বরের জন্য ব্যবহৃত কিছু চেনা অ্যান্টিবায়োটিকও বিপদ ডেকে আনতে পারে। এই ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক হৃৎস্পন্দন বাড়িয়ে দেয়, যা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

আবার মহিলারা ইস্ট্রোজেন সমৃদ্ধ যে গর্ভনিরোধক বড়ি খান, সেগুলি খাওয়ারও নিয়ম আছে। যদি নিয়মিত খেতে থাকেন, তা হলে রক্তচাপের হেরফের হতে পারে। আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বা থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে, অথবা হরমোন থেরাপি করিয়েছেন যাঁরা, তাঁদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধও বুঝেশুনে খেতে হবে। শরীরের প্রদাহ বা অ্যালার্জি কমাতে যে ওষুধগুলি দেওয়া হয়, তাতে স্টেরয়েড থাকে। নাকে টানার কয়েক রকম ড্রপেও স্টেরয়েড থাকে। এগুলি চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সঠিক ডোজ়ে ব্যবহার না করলেই বিপদ। স্টেরয়েড শরীরে নুন ও জল জমিয়ে রাখে। এতে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে রক্তচাপ আচমকা বেড়ে যেতে পারে।

আরও এক রকম ওষুধ রয়েছে, যা অনেকেই না বুঝেশুনে খেয়ে ফেলেন। যেমন উদ্বেগ কমানোর ওষুধ বা মানসিক অবসাদ কমানোর কিছু ওষুধ। মন খারাপ লাগলে বা দুশ্চিন্তা হলেই একটা বড়ি খেয়ে নিলেন। তাতে সাময়িক আরাম পেলেও, শরীরে কী বদল ঘটে গেল, তা জাননেও পারলেন না। এই সব ওষুধ মুড়িমুড়কির মতো খেলে মস্তিষ্কে রাসায়নিক বদল ঘটতে থাকবে। স্নায়ুর উপরে এই ওষুধগুলি এতটাই প্রভাব খাটায়, যে ডোজ়ের হেরফের হলেই শরীরে গোলমাল বাঁধবে। এই ধরনের ওষুধও রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার সময়েও সাবধান। এখন অনেকেই নানা রকম সাপ্লিমেন্ট কিনে খান, তার মধ্যে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট,প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট ও কিছু হালফিলের ভেষজ সাপ্লিমেন্টও রয়েছে। এর কোনওটিই চিকিৎসককে না জিজ্ঞাসা করে খাওয়া ঠিক নয়। এতে রক্তচাপ তো বাড়েই, হাড়ের ক্ষয় হয়ে অস্টিয়োপোরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়বে।

High Blood Pressure medicines
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy