শিশুর পেটে ব্যথা হলেই গ্রাইপ ওয়াটার খাওয়ানোর চল অনেক বাড়িতেই রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অনেকে এই ভুল করে বসেন। ভারতের বাজারে গ্রাইপ ওয়াটার সর্বত্র বিক্রি হচ্ছে। অথচ আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) কিন্তু গ্রাইপ ওয়াটারকে একেবারে বাতিল ওষুধের তালিকায় ফেলেছে। সদ্যোজাত শিশুদের গ্যাস-অম্বলের সমস্যা হোক বা পেটের যন্ত্রণা, শিশু একটু কেঁদে উঠলেই মুখে গ্রাইপ ওয়াটার দিয়ে দেওয়ার আগে সতর্ক হতে হবে।
কেন ক্ষতিকর?
গ্রাইপ ওয়াটারে থাকে অ্যালকোহল, যা শিশুদের শরীরের পক্ষে মোটেও ভাল নয়। এতে শিশুরা সারা দিন ঝিমিয়ে থাকে কিংবা ঘুমের নেশায় থাকে। এ ছাড়াও গ্রাইপ ওয়াটারে থাকে অত্যধিক মাত্রায় চিনি। দু’ বছরের নীচে শিশুদের মোটেও অ্যাডেড সুগার দেওয়া উচিত নয়। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের চিকিৎসকেরা বলছেন, দু’বছরের কম বয়সি শিশুদের খাদ্যতালিকায় কোনও রকম চিনি বা চিনি জাতীয় খাবার রাখা একেবারেই উচিত নয়। এই বয়সে বেশি চিনি খেলে পরবর্তী কালে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং টাইপ-টু ডায়াবিটিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই বয়সের শিশুদের শর্করাযুক্ত খাবার খাওয়ালে তা তাদের বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অতিরিক্ত চিনির প্রভাবে শিশুদের দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে। গ্রাইপ ওয়াটারে থাকে সোডিয়াম বাইকার্বোনেটের মতো ক্ষার জাতীয় উপাদান, যা দীর্ঘ দিন ধরে শিশুর শরীরে গেলে তার শরীরের বড় ক্ষতি হতে পারে।
কী করণীয়?
এখন শিশুর পেট ব্যথা দূর করার জন্য বাজারে অনেক রকম ওষুধ পাওয়া যায়। আগে ওষুধের জোগান খুব বেশি সহজ ছিল না বলে গ্রাইপ ওয়াটার ব্যবহার করা হত। তবে এখন এ রকম সমস্যা হলে চিকিৎসকের মরামর্শ নিয়ে গ্রাইপ ওয়াটারের বদলে ওষুধ খাওয়ান শিশুকে।