প্রতিটি ব্যর্থতার পিছনে কিছু কারণ থাকে বটে। কিন্তু সেসব বাধা, প্রতিকূল পরিস্থিতিকে যিনি ইচ্ছের জোরে জয় করতে পারেন, তিনিই সফল হন। বলিউড অভিনেত্রী সান্যা মলহোত্রের মানসিকতার ব্যাপারে এই কথাই বলেছেন তাঁর ফিটনেস প্রশিক্ষক ত্রিদেব পাণ্ডে। তাঁর বক্তব্য, কেউ যদি সান্যার মতো মানসিকতা তৈরি করে নিতে পারেন, তবে তাঁর সফল হওয়া কেউ আটকাতে পারবে না। ত্রিদেবের বক্তব্য, যে কোনও বড় তারকার সাফল্যের নেপথ্যে এই অধ্যবসায়ই হল আসল চাবিকাঠি।
কেন এমন বলছেন ফিটনেস প্রশিক্ষক?
ত্রিদেব জানিয়েছেন, অভিনেতা অভিনেত্রীদের পেশার প্রয়োজনেই ফিটনেসের ব্যাপারে সচেতন হতে হয়, আর তাঁরা তা করেনও। কিন্তু ব্যস্ততার মধ্যে বা যখন এক সঙ্গে অনেক কাজ চলে আসে, তখন সেই ফিটনেস রুটিনে বিরামও পড়ে। বাইরে শুটিং, কোনও অনুষ্ঠানে হাজির হওয়া, সারা দিনের শুটিং— এমনই নানা কারণে তারকারা হয়তো সারা দিনে এক বারও শরীরচর্চা করতে পারলেন না। কিন্তু সান্যার ক্ষেত্রে তেমনটা হওয়ার জো নেই। ত্রিদেব নিজের সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে বলেছেন, ‘‘এমন বহুদিন গিয়েছে, যখন সান্যার হাতে শরীরচর্চা না করার উপযুক্ত কারণ ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তা করেননি। প্রবল ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতি দিনের শরীরচর্চার রুটিন তাঁর বাদ পড়েনি একটুও।’’
‘দঙ্গল’ -এ কেরিয়ার শুরু করে এখন অনেকটা এগিয়ে এসেছেন সান্য মালহোত্র। ওই নিষ্ঠাই কি কারণ? ছবি: সংগৃহীত।
ত্রিদেব জানিয়েছেন, এমনও হয়েছে প্রচন্ড ব্যস্ততার ফাঁকে সান্যা তাঁকে বলেছেন, ‘‘শুটিংয়ের ফাঁকে আমি ২০ মিনিট বার করতে পারব। তখন আমি ট্রেনিং করে নেব।’’ এমনকি প্রয়োজনে ভিডিয়ো কল করেও ত্রিদেবের সঙ্গে শরীরচর্চা করেছেন সান্যা। এই যে এক দিনও নিয়ম না ভাঙার জেদ, এরই প্রশংসা করেছেন ত্রিদেব। তিনি বলেছেন, ‘‘সান্যার মতো মানসিকতা যদি তৈরি করে নিতে পারো, তা হলে কেউ তোমাকে লক্ষ্য ছোঁয়া থেকে আটকাতে পারবে না।’’
শরীরচর্চা করতে অনীহা স্বাভাবিক!
শরীরচর্চা করতে হবে— ভাবা যত সহজ এবং জিমে গিয়ে সদস্যপদ নেওয়া যত সহজ, সেই অভ্যাস চালিয়ে নিয়ে যাওয়া তত সহজ কাজ নয়। প্রথম পর্যায়ের জেদ বড় জোর এক সপ্তাহ থেকে এক মাস টেনে নিয়ে যেতে পারে। তার পরে এগোনোর জন্য প্রয়োজন হয় তীব্র ইচ্ছে। কারণ, আলস্য সেই ইচ্ছেকে দমন করার জন্য মুখিয়েই থাকে। বলিউডের তারকাদের ফিটনেস প্রশিক্ষক ত্রিদেব বলছেন, ‘‘নিয়মিত শরীরচর্চা করা অনেকের কাছেই বোঝার মতো মনে হতে পারে, যদি ইচ্ছেটা জোরালো না হয়।’’
যা মনে রাখা দরকার
রুটিন বজায় রাখার শৃঙ্খলা যেমন ভাল, তেমনই নিজের উপর জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়াও ঠিক নয় বলে জানাচ্ছেন এক মনোবিদ সন্তোষ চৌহান। তাঁর বক্তব্য, মন চাইছে না, অথচ শরীরকে জোর করে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন, এতেও আদপে ততটা লাভ হবে না, যতটা আশা করছেন। বরং বিষয়টিকে ভালবেসে, বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে করতে পারলেই ভাল হবে বেশি।