কাশি আর সঙ্গে জ্বর! দু-তিন মাস ধরে এমন উপসর্গ দেখা দিলে তা মোটেই ভাল লক্ষণ নয়। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর মতে এই উপসর্গগুলির জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দায়ী ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের এইচ৩এন২ উপরূপ। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের এই এইচ৩এন২ উপরূপের কারণেই রোগীরা সবচেয়ে বেশি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। অন্য উপরূপগুলির তুলনায় এটি অনেক বেশি ক্ষতিকর, দাবি আইসিএমআর-এর।
ইনফ্লুয়েঞ্জার এই বাড়বাড়ন্ত কেন?
‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল’, (এনসিডিসি)-র দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘আইএমএ’ জানিয়েছে, যে সব জ্বর সাধারণত তিন দিনের বেশি থাকে না, সেগুলি ইনফ্লুয়েঞ্জা জাতীয়। আর এই ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা বাড়াবাড়ি আকার ধারণ না করলে ‘অ্যান্টিবায়োটিক’ খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু এখন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই অনেকে ‘অ্যাজ়িথ্রোমাইসিন’, ‘অ্যামোক্সিক্ল্যাভ’ জাতীয় ওষুধগুলি দোকান থেকে কিনে খেয়ে ফেলেন। এতে শরীরে অযথা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। যা হয়তো সেই সময়ে প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু আসলে যখন প্রতিরোধের প্রয়োজন পড়ে, সে সময়ে আর ওই ওষুধগুলি কাজ করতে চায় না।
কেন টিকা জরুরি?
১) ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের জিনগত বদল খুব দ্রুত ঘটে
২) ইনফ্লুয়েঞ্জা কেবল সর্দি-জ্বর নয়, একই সঙ্গে নিউমোনিয়া, হৃদ্রোগ ও মাল্টি-অর্গ্যান ফেলিয়োরের কারণ হতে পারে।
৫০ বছরের পরে শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়, ফলে ফ্লু-এ আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ৫০ বছরের পরে বছরে এক বার ইনফ্লুয়েঞ্জার ভ্যাকসিন আর সারা জীবনের জন্য ২০ নং নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন এক বার নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অনেকেই দামি এই টিকা নিতে আপত্তি করেন। তাঁদের বক্তব্য, সর্দি, কাশি বা হাঁচি নেই, তা হলে অযথা কেন টিকা নেবেন? এই নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন আদতে সেপ্টিসেমিয়ার হাত থেকে রোগীকে বাঁচাবে। স্ট্রেপটোকক্কাস নিউমোনি নামক ব্যাক্টেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে এই টিকা। ইনভেসিভ নিউমোনিয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে রোগী। ইনভেসিভ নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে মৃত্যুহার ২০-২৫ শতাংশ। তাই আগে থেকেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
এই টিকাগুলির দাম খানিক বেশি। কিন্তু পরবর্তীকালে রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খরচ অনেকটাই কমবে এই টিকাগুলি নেওয়া থাকলে।