Advertisement
E-Paper

টক দই সহ্য হয় না, গরমের দিনে পেট ভাল রাখতে চুমুক দিন কাঞ্জিতে, কী এর উপকারিতা

হালকা নোনতা, হালকা টক। স্বাদের এক সুন্দর ভারসাম্য মেলে কাঞ্জিতে। বঙ্গে এমন পানীয় খাওয়ার চল হয়েছে ইদানীং। তবে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে থাকা এই পানীয়ের উপকারিতা কম নয়। গরমে তা কেন খাবেন?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৫:০৩
কাঞ্জিতে চুমুক দিলে শরীরে কী বদল ঘটবে?

কাঞ্জিতে চুমুক দিলে শরীরে কী বদল ঘটবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

গরম পড়লে পেট ভাল রাখতে টক দই, ঘোল, লেবুর শরবতেই আস্থা রাখেন? তবে তালিকায় জুড়তে পারেন কাঞ্জিও। মজিয়ে নেওয়া এই পানীয় খাওয়ার চল বঙ্গে তেমন না থাকলেও রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, পঞ্জাবের মতো রাজ্যে শরীর ঠান্ডা রাখতে কাঞ্জি খাওয়ার চল নতুন নয়। হালকা টক-নোনতা স্বাদের পানীয়টি সুস্বাদু তো বটেই, এই কাঞ্জির জলে বড়া ভিজিয়ে সেটিও খাওয়া হয়।

এক কথায় কাঞ্জি হল কালো গাজর, বিট, সর্ষের গুঁড়ো দিয়ে মজিয়ে নেওয়া এমন এক পানীয়, যাতে থাকে প্রোবায়োটিক। পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখে অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাক্টেরিয়া। কাঞ্জি এমন এক পানীয়, যা পেটে উপকারী ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। মূলত কালো গাজর, বিট দিয়ে তৈরি কাঞ্জি শুধু প্রোবায়োটিকই নয়, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টেরও উৎস। সর্ষের গুঁড়োয় থাকে গ্লুকোসিনোলেটস, যা প্রদাহনাশক উপাদান।

দই-এর বদলে কাঞ্জি?

অনেকেরই টক দই সহ্য হয় না। অনেকে ঘোল খেলেও চিনি মেশান। তবে চিকিৎসকেরা বলছেন, টক দই বা ঘোলে চিনি মেশালে তার উপকারিতা নষ্ট হয়। উল্টে চিনি অম্বলের কারণ হতে পারে। পেটের স্বাস্থ্যের জন্যও তা ভাল নয়। তাই যাঁদের টক দই পছন্দ নয় বা সহ্য হয় না, তাঁরা চুমুক দিতে পারেন কাঞ্জিতে।

কাঞ্জির উপকারিতা

পেট ভাল রাখে এবং হজমকারক: মজিয়ে বা ফারমেন্ট করে তৈরি হওয়া পানীয় অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। কাঞ্জিও তাই। পানীয়টি প্রোবায়োটিকের অন্যতম উৎস। উপকারী ব্যাক্টেরিয়া খাবার হজমে সাহায্য করে। পেটের স্বাস্থ্য ভাল রাখে। বদহজম, পেট ফাঁপার সমস্যাও কমায় পানীয়টি। অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখার পাশাপাশি পুষ্টি শোষণেও সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধক : বিট, গাজরের কাঞ্জিতে ভিটামিন সি-সহ নানা খনিজ, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, উপকারী ব্যাক্টেরিয়া থাকে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিক্যালসের সঙ্গে লড়াই করে শরীর সুস্থ রাখে।

ডিটক্স: শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার ফলে শরীরে কিছু দূষিত পদার্থ তৈরি হয়। শরীর থেকে তা বার করে দেওয়া জরুরি। সাধারণত জল সেই কাজটি করে। তবে কিছু পানীয় শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দিতে বিশেষ ভাবে সক্ষম, তার মধ্যে পড়ে কাঞ্জিও। দূষিত পদার্থ বার করে লিভারের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে পানীয়টি।

ত্বক ভাল রাখে: গাজরের বিটা ক্যারোটিন এবং কাঞ্জির অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ত্বক ভাল রাখতে সাহায্য করে। তা ছাড়া, পানীয় জলের অভাবও দূর করে এটি। ত্বক ভাল রাখতে পর্যাপ্ত জল খাওয়া জরুরি এবং পেট ভাল থাকা দরকার। দুই শর্তই পূরণ করে কাঞ্জি।

প্রদাহ কমায়: সর্ষের গুঁড়োয় থাকে গ্লুকোসিনোলেটস এবং সেলেনিয়াম। যা প্রদাহনাশক উপাদান। প্রদাহ শরীরে নানা ভাবে ক্ষতি করে। তার হাত থেকেও রক্ষা করতে পারে পানীয়টি।

কী ভাবে বানানো যায়?

একটি জল ভরা কাচের পাত্রে ৫০০ গ্রাম খোসা ছাড়ানো কালো গাজর, ২ টেবিল চামচ সর্ষের গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন মিশিয়ে নিন। জলে যেন সমস্ত জিনিস ডুবে থাকে। তবে পাত্রের মুখের কিছুটা অংশ ফাঁকা রাখা জরুরি।

ঢাকনা না দিয়ে সুতির পরিষ্কার কাপড় দিয়ে পাত্রের মুখ বেঁধে দিন, যাতে হাওয়া চলাচলে অসুবিধা না হয়। গরম কোনও স্থানে পাত্রটি বসিয়ে রাখুন, সেটি নাড়াঘাঁটা করা চলবে না। ২-৩ দিন অন্তর কাপড় সরিয়ে কাঠের চামচ দিয়ে মিশ্রণটি ঘেঁটে আবার মুখটি আটকে দিন।

৫ দিন পরে জলটি চেখে দেখুন। এতে হালকা টক স্বাদ আসবে। গন্ধও পাল্টাবে। তার পর সেটি ছেঁকে ফ্রিজে ভরে রাখুন, না হলে খারাপ হয়ে যাবে।

তবে শুধু গাজর নয়, এক এক জায়গায় এক এক রকম সব্জি দিয়ে কাঞ্জি তৈরি হয়। তাতে স্বাদে কিঞ্চিৎ তফাত আসে।

Kanji Benefits
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy