রাতে শুলেই মাথায় হাজার রকম চিন্তা ঘুরপাক খায়। পেশাগত ক্ষেত্রের চাপ, সাংসারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তাও হয়। উদ্বেগ এতই বেশি যে ঘুম আসতে চায় না। যদিও বা দু’চোখের পাতা কখনও এক হল, কিছু সময় পরেই ঘুমটা ভেঙে যায়। দিনভর পরিশ্রমে শরীর পরিশ্রান্ত, কিন্তু ঘুম নেই দু’চোখে। এমন সমস্যা এখন অনেকেরই। শত চেষ্টাতেও অবাধ্য চোখকে ঘুম পাড়ানো যাচ্ছে না। কমবয়সিরা ঘুম ভেঙে গেলে মোবাইল-ল্যাপটপ খুলে বসে পড়েন। প্রৌঢ়-বৃদ্ধেরাও যে আজকাল সেই পন্থা অনুসরণ করছেন, সেটা বলাই বাহুল্য। তার উপর অনিদ্রার সমস্যা বা স্লিপ অ্যাপনিয়া থাকলে তো কথাই নেই। এমন সমস্যায় ঘুমের ওষুধ নয়, কাজে আসবে যোগাসনেই।
যোগব্যায়ামের কিছু পদ্ধতি জানা থাকলে, ঘুমের সমস্যা চিরতরে ঘুচে যাবে। রোজ যদি অভ্যাস করতে পারেন, তা হলে শরীর ও মন দুইই ভাল থাকবে।
পশ্চিমোত্তাসন
এই আসনটি করতে সবার প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে দু’হাত মাথার দু’পাশে উপরের দিকে রাখুন। পা দু’টি একসঙ্গে জোড়া রাখুন। এ বার আস্তে আস্তে উঠে বসে সামনে ঝুঁকে দু’হাত দিয়ে দুই পায়ের বুড়ো আঙুল স্পর্শ করুন। কপাল দু’পায়ে ঠেকান। হাঁটু ভাঁজ না করে পেট ও বুক উরুতে ঠেকান। কিছু ক্ষণ এই ভঙ্গিতে থাকার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন।
আরও পড়ুন:
বিপরীত করণী
প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে পড়ুন। তার পর পা দু’টি জোড়া করে উপরের দিকে তুলুন। নিতম্ব দু’হাতের চেটো দিয়ে ঠেলে উপরের দিকে তুলতে চেষ্টা করুন। কোমর এবং পা যেন সোজা থাকে। পা শূন্যে তোলার পর শ্বাসপ্রশ্বাস যেন স্বাভাবিক থাকে। ওই অবস্থায় থেকে মনে মনে এক থেকে দশ পর্যন্ত গুনতে হবে। তার পর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে।
বালাসন
হামাগুড়ি দেওয়ার ভঙ্গিতে মেঝেতে বসুন। এ বার আস্তে আস্তে সারা শরীর পিছনে নিয়ে গিয়ে নিতম্ব পায়ের গোড়ালির উপর রাখুন। কপাল মাটিতে ঠেকান। হাত দুটো পিছনে নিয়ে গিয়ে তালু উল্টো করে পায়ের কাছে রাখুন। মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমাতে সহায়তা করে এই যোগাসন। দেহে রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়াকেও স্বাভাবিক রাখে।